সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রী নাসিমা খানের ছেলে এখনও নিখোঁজ, যা বলছে পুলিশ

প্রয়াত অভিনেত্রী নাসিমা খানের ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ রয়েছেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তিনি। মৃত্যুর আগে নাসিমা খান বেশ কয়েকবার ছেলের সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন নাসিমা খান। ও‌সি মো. ত‌রিকুল ইসলাম এটি নিশ্চিত করেন।

তিনি ব‌লেন, ‘৬-৭ মাস আগে ছে‌লে নি‌খোঁজ সংক্রান্ত এক‌টি  সাঘারণ ডা‌য়ে‌রি ক‌রে‌ছি‌লেন না‌সিমা খান।’

মো. ত‌রিকুল ইসলাম  জানান, ছে‌লে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোন নি‌য়ে যায়‌নি। যে কার‌ণে তা‌কে খুঁজে পে‌তে  বেগ পে‌তে হ‌চ্ছে। পু‌লি‌শের পক্ষ থে‌কে সব থানায় বার্তা দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। পু‌লিশ চেষ্টা কর‌ছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ইন্তেকাল করেন অভিনেত্রী নাসিমা খান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। অভিনেত্রীর মরদেহ রাখা হয়েছে হিমঘরে।

নাসিমা খানের  বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলেই নাসিমার দাফন হবে বলে জানা গেছে।

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এ সিনেমার মাধ্যমে দর্শক মহলে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এই অভিনেত্রী।

ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেন নাসিমা খান। সে সময়ের চলচ্চিত্রাঙ্গনে তিনি ছিলেন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে সর্বশেষ তাকে পর্দায় দেখা যায়।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম নাসিমা খানের। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী।