একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনে যতটা বিশৃঙ্খলা হতে পারে, মোটামুটি তার চৌদ্দ-আনা দেখা গেলো ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পঞ্চম দিনে। সংবাদ সম্মেলনের অপ্রতুল জায়গা, দরজা ভেদ করে হুড়মুড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ কিংবা তারকাকে ঘিরে সাংবাদিক, ইউটিউবার ও দর্শকের বেদম ভিড়; যা প্রায় ধস্তাধস্তির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকের সঙ্গে উৎসব স্বেচ্ছাসেবীর বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। বাকি ছিল কেবল হাতাহাতি! অগত্যা পুলিশ সদস্যদের বেষ্টনী দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামলানো গেছে।
অব্যবস্থাপনা আর বিশৃঙ্খলার এই গ্লানি অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ, যাকে ঘিরে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল, সেই স্বস্তিকা মুখার্জি সংবাদ সম্মেলনে না এলেও সিনেমা শুরুর আগে মঞ্চে উঠে ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন; সঙ্গে উড়ো চুমু।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাদুঘর ভবনে আসেন স্বস্তিকা। যদিও তার হাজির হওয়ার কথা ছিল বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ। অংশ নেওয়ার কথা ছিল পূর্ব ঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়াই সম্পন্ন হয় পর্বটি।
কিন্তু একবাক্য বলার জন্য তো মাইক্রোফোন হাতে নেননি টলিউড অভিনেত্রী। তাই বললেন, ‘আমার ৪৩ বছর বয়স হয়েছে। এমনিতেই বয়স বাড়লে ভয় লাগে যে ক্রেজটা বুঝি কমে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসে সেই ধারণা একদম মন থেকে মুছে গেছে। এখানে আসার পর যেখানেই যাচ্ছি, সবার এত ভালোবাসা পাচ্ছি। সারা বছর তো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাদের ভালোবাসা পাই। তবে আজ এখানে এসে আরও আপ্লুত। এত ভালোবাসার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। খুবই ভালো লাগছে। কারণ, আজ আমার জীবনের বিশেষ দিন। আমার একটি বিশেষ ছবি আপনাদের সঙ্গে বসে দেখবো।’
‘বিজয়ার পরে’ ছবির আরেকটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার নন্দিত অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর। তিনিও এলেন ঢাকায়, এ আয়োজনে। দর্শকের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের জন্য মনপ্রাণ ভরা ভালোবাসা। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, এর মধ্যেও দীর্ঘ লাইন ধরে আপনারা এসেছেন, কী যে ভালো লাগছে আমার, বলে বোঝাতে পারবো না।’
সংশ্লিষ্টদের কথা পর্বের পর শুরু হয় ‘বিজয়ার পরে’ ছবির প্রদর্শনী। কিছুক্ষণ সামনের সারিতে বসে ছবিটি দেখেন স্বস্তিকা। এরপর হলের বাইরে যান, কারণ ততক্ষণে তার জন্য ক্যামেরা-বুম প্রস্তুত করে অপেক্ষায় সংবাদকর্মী ও ইউটিউবাররা। পর্দার দেবী এলেন, এরপর তাদের নানা প্রশ্নের জবাবে কথার দুয়ার খুলে দেন।
বলা প্রয়োজন, গত ২০ জানুয়ারি শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এই ২২তম আসর। এটি দেশের বৃহত্তম চলচ্চিত্র আয়োজন। যদিও উৎসবটি ঘিরে প্রতিবারই নানা অব্যবস্থার অভিযোগ ওঠে। তবু চোখে পড়ার মতো উন্নতি দেখা যায়নি এবারও।
এবার ৭৪টি দেশের ২৫২টি ছবি অংশ নিচ্ছে উৎসবে। আগামী ২৮ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা নামবে এই চলচ্চিত্র যজ্ঞের।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন