বাঁধনের সঙ্গে ইতালিতে যা হয়েছে, তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়: আবুল কালাম আজাদ

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম। তার মতে, পরিচিত মুখকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আলোচনায় আসার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এটি একটি বড় ব্যবস্থার অংশ।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন টেলিভিশন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম।

বাঁধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন আর্টিস্টের পলিটিক্যাল ইডিওলজি, বিশ্বাস অথবা আন্দোলনের অংশ; তার অ্যাক্টিভিজম থাকতে পারে, অনেক কিছু থাকতে পারে। কিন্তু উনি তো অ্যাটাকের বস্তু হতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘বাঁধন অনেক বছর ধরে কাজ করছে আর্টিস্ট হিসেবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করেছে। তার একটা সম্মানের বিষয় আছে, একটা রেপুটেশনের বিষয় আছে।’

বাঁধনকে জুলাই আন্দোলনে থাকার কারণে লক্ষ্য করা হয়েছে মন্তব্য করে আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তো লক্ষ লক্ষ লোক রাস্তায় ছিল। তাই বলে তারা বিদেশে গেলে কি আক্রমণের শিকার হবেন? তার মানে হচ্ছে, উনাকে চেনে, দেখে; ওনার ওপর একটা আক্রমণ করার চেষ্টা।’

ভেনিসের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন না দেখার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘ভেনিসে হয়েছে, ইতালিতে হয়েছে মানে এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তা না। এটা আসলে একটা পুরো সিস্টেমের একটা অংশ। যারা অপরিচিত লোক, তাদের তো কিছু করতে পারবে না। বাঁধন একটা ফেস, পরিচয় আছে, তার একটা রেপুটেশন আছে। তাকে অ্যাটাক করতে পারলে তারা একটু লাইমলাইটেও আসে।’

তার মতে, এ ধরনের ঘটনা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি বলেন, ‘এখন যদি ভেনিস ফেস্ট এর পর থেকে বলে যে বাংলাদেশের কোনও কিছু আনা যাবে না, আনলেই ঝামেলা হবে; এটা তো বিদেশেও একটা দেশের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে।’

হামলার পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘তারা আসলে মোটিভেটেড। কেউ তার পেছনে আছে যে, এই কাজটা করে আয়।’

গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ইতালির ভেনিসে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে বাঁধন হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই তার পাশে দাঁড়ান।

এদিকে আজাদ আবুল কালামের বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও হচ্ছে। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রবাসীদের প্রসঙ্গে ‘ইউরোপে কামলা খেটে চলে’ মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের বক্তব্য, বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের এভাবে উল্লেখ করা অসম্মানজনক।