সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে দামেস্কে ২৪ ঘণ্টা আর উপকূলীয় লাটাকিয়া প্রদেশে তিনদিন তারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। সেনাবাহিনী বলছে, বিদ্রোহীরা যেন সাধারণ বাসিন্দাদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। তবে এ অস্ত্রবিরতি সাময়িক কেন সে ব্যাপারে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর আলেপ্পোকে এ অস্ত্রবিরতির আওতায় রাখা হয়নি। অথচ এই শহরেই গত আটদিনের সহিংসতায় দুইশ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এখনও সেখানে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গত বুধবার শহরটির আল কুদস হাসপাতালে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হন।
৫ বছরের সংঘাতের পর গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়ায় একটি অস্ত্রবিরতি কার্যকরে সম্মত হয় দুই বিবাদমান পক্ষ। তবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দেশটির সরকার ব্যাপকভাবে এ অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্রোহীরা। সরকারও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ আনে। সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইস্যু গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ স্থগিত করে প্রধান বিরোধী জোট। এমন অবস্থায় জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে সংকট দেখা দেয়।
এই প্রেক্ষাপটেই সিরিয়ার বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা জোরালো করার ওপর জোর দেন মিস্তুরা। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হস্তক্ষপের ওপর সিরিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া সফল হওয়ার ইস্যুটি নির্ভর করছে।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার অব্যাহত কূটনীতিক চাপের কারণেই সিরিয়ার সরকার সাময়িক অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে সিরিয়ার সরকার তাদের ডাকা এ অস্ত্রবিরতি আলেপ্পো পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। তবে রুশ বাহিনী তা চাইছে না।
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় গত ৫ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ। লাখ লাখ মানুষ হয়েছেন ঘরহারা। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
/এফইউ/বিএ/