এক আফগান নারীকে জনসমক্ষে হত্যা করেছে তালেবান। ওই নারীর বিরুদ্ধে নিজের স্বামীকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। সেই অভিযোগেই তালেবানের নিজেদের কথিত ইসলামী শরীয়ার আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ওই নারীকে।
এরইমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তবে এ ব্যাপারে তালেবানের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
আফগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, এক থেকে দুই মাস আগে জৌযজান প্রদেশে ওই নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর সে সময় ধারণকৃত একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা এক নারী মাটিতে বসে আছেন। তার চারপাশে অনেক লোক ভিড় করে আছেন। এরপর ওই নারীকে মাথার পেছন দিক থেকে গুলি করা হয়।
এর আগেও তালেবানের এই ধারার হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছিল। মাঝে মাঝেই ব্যভিচারের অভিযোগ তুলে কাবুলের প্রধান স্টেডিয়ামে নারীদের (বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে তালেবান। গত বছর আফগানিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় ঘর প্রদেশে ব্যভিচারের অভিযোগ এনে এক তরুণীকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়েছিল। ২০১১ সালে কুন্দুজ প্রদেশে এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে ওই ব্যক্তিসহ এক নারীকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার যৌক্তিকতা দাবি করে তালেবানের এক মুখপাত্র সেসময় বলেছিলেন, ‘ইসলাম সম্পর্কে যারা জানেন তারা এটাও জানেন যে কোরআনে পাথর ছোড়ার কথা বলা আছে আর এটি ইসলামী আইন। কিছু কিছু মানুষ একে অমানবিকতা বলতে চান। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে তারা মূলত মহানবী (স.)-কে অপমান করেন। তারা এ দেশে বিদেশি চিন্তা চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে চান।’ সূত্র: বিবিসি