মঙ্গলবার বাকিংহাম প্যালেসের গার্ডেন পার্টিতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডার লুসি ডোরসির কাছে চীনা কর্মকর্তাদের ব্যাপারে এমন অসন্তুষ্টি জানান খোদ ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। আর রাণী যখন অভিযোগ করছিলেন সে দৃশ্যটুকু ক্যামেরায় ধারণ করেন তার অফিসিয়াল ক্যামেরাপার্সন।
অবশ্য রানির মন্তব্যের ব্যাপারে যুক্তরাজ্য কিংবা চীন কেউই প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হয়নি। বিষয়টি এড়িয়ে গেছে তারা। তবে এই মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গার্ডেন পার্টিতে রাণির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় ডোরসি জানান, তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর তখন রাণি বলে ওঠেন, ‘ওহ, দুর্ভাগ্য’।
পরে অতিথিদের উদ্দেশে রানি বলেন, ‘তারা (চীনা কর্মকর্তারা) ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বারবারা উডওয়ার্ডের সঙ্গে খুব অভদ্র আচরণ করেছেন।’ উল্লেখ্য, বারবারা উডওয়ার্ড হলেন চীনে নিয়োজিত প্রথম নারী ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের সময় তিনিও সঙ্গে এসেছিলেন।
রানি এলিজাবেথ যখন চীনা কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন, তখন ডোরসিও রাণির কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘শি জিং পিং-এর সফরের পুরো সময়টুকু আমার জন্য একটা পরীক্ষা ছিল।’ তিনি আরও জানান, এক পর্যায়ে চীনা কর্মকর্তারা তাকে ও বারবারাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান এবং বলেন ‘সফর শেষ’।
পুলিশ কমান্ডার ডোরসি আরও বলেন, ‘এটি খুবই রূঢ় এবং খুবই অকূটনৈতিক আচরণ।’ রানির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার ওই আলাপচারিতার ফুটেজটি বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে মিডিয়াগুলোকে দেওয়া হয়েছে। আর সে ভিডিওর মধ্য দিয়েই ইঙ্গিত মিলছে যে শি জিং পিং-এর যুক্তরাজ্য সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বর্ণযুগের যাত্রা শুরুর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তা ফুরিয়ে গেছে। অথচ শি এর যুক্তরাজ্য সফরের আগে বারবারা আশা প্রকাশ করেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হতে যাচ্ছে। শি এর সফরকে সোনালি সফর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চীনা কর্মকর্তারাদের অভদ্র আচরণের শিকার হয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান চীনে নিয়োজিত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বারবারা। বাকিংহাম প্যালেস কর্তৃপক্ষও রানির মন্তব্যের ব্যাপারে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে বলেন, চীনা প্রেসিডেন্টের সফর ইতিবাচক ছিল।
এদিকে বেইজিং-এর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনও ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি
/এফইউ/বিএ/