বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নাগরিকতা দিতে ভারতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু

পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের নাগরিকতা দিতে ভারতের নাগরিকতা আইন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে আইনের খসড়া সংশোধনী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে, এর পেছনে মানবিক বিবেচনার চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে নাগরিকতা আইনের খসড়া সংশোধনী তৈরী করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী ধর্মীয় কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘুরা ভারতে গেলে তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বিবেচনা করা হবে না। তাদের ভারতে থাকার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।  
১৯৯৫ সালের নাগরিকতা আইনে পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের ভারতে আশ্রয়ের নিশ্চয়তা বিধান করা হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ওই দুই দেশের সংখ্যালঘুদের বিপন্নতায় তাদের রক্ষাকারী হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতেই মোদি সরকারের এই উদ্যোগ।  
টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ভারতের নাগরিকতা আইনের এই পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ২ লাখ হিন্দু উপকৃত হবেন। নিজ দেশে সংখ্যালঘু ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত এইসব মানুষেরা মাঝে মাঝে ব্লাসফেমির স্বীকার হয়ে থাকেন উল্লেখ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, এখন থেকে চাইলে সেই ব্লাসফেমির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ তৈরী হবে তাদের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত কোনও বাংলাদেশি মুসলমান যখন ভারতে ঢুকতে চায় তখন তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলা হয়। সেখানে হিন্দুদের কিংবা সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে এই আলাদা বিধান জারির সিদ্ধান্তকে অনেকেই হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বলে সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, সংঘ পরিবারের প্রেরণায় ভারতকে পৃথিবীর সব হিন্দুর দেশ হিসেবে বিবেচনা করার জায়গা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ইশতেহারে সংখ্যালঘু হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকতা দেওয়ার অঙ্গীকার করে বিজেপি। ক্ষমতায় আসবার পর থেকেই শুরু করে এ সংক্রান্ত তৎপরতা। নাগরিকতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দেওয়ারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ভিসাধারীদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছে তারা।

নাগরিকতা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে যে সংখ্যালঘুরা ভারতে গেছেন অবৈধ পথে, তারা নাগরিকতার আবেদন করতে পারবেন।

সংশোধিত ওই খসড়া খুব শিগগির মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/বিএ/