রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রশ্নবিদ্ধ মার্কিন ফেড

প্রথম দফায় প্রত্যাখ্যান করে পরে কেন সুইফট আবেদনে অনুমোদন?

swift-2বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির কয়েক ঘন্টা আগে প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় বেশ কয়েকটি ভুয়া আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। কিন্তু পরে আবার আবেদন করা হলে পাঁচটি ভুয়া আবেদন অনুমোদন করে ফেডারেল রিজার্ভ। প্রথমে প্রত্যাখ্যান করেও কেন পরে অনুমোদন করা হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার (৪ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।
দুইজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, যারা পুরো বিষয়টি সামনে থেকে দেখেছেন, তাদের বরাতে রয়টার্স জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ চুরির ওই দিনে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক প্রাথমিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রিজার্ভ স্থানান্তরের ৩৫টি রিক্যুয়েস্ট বা অনুরোধ বাতিল করেছিল। কিন্তু পরে আবার আবেদন করা হলে নিউইয়র্কের ওই ব্যাংক সেগুলো অনুমোদন করে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই প্রাথমিক সতর্কবার্তা কেন আমলে নেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। ওই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে ওই তথ্য দিয়েছেন।    
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তরের জন্য সুইফট সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিউইয়র্ক শাখা প্রাথমিকভাবে ওই অর্থ স্থানান্তরের আবেদন উপেক্ষা করে। কারণ, এসব আবেদনে সুইফট মেসেজ সঠিক ফরম্যাটে ছিল না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম আবেদনগুলোতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নাম ছিল না। সে কারণেই নিউইয়র্কের ব্যাংকটি ওই আবেদনগুলো বাতিল করে।’ পরে সুইফটের নেটওয়ার্ক হ্যাকড করে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই রিজার্ভ চুরি করে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের উচিত ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় দফার সবগুলো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা।’
ফেডারেল রিজার্ভ প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে দ্বিতীয় দফায়ও ৩০টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু পাঁচটি আবেদনকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে মোট ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর হয়। পরে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরকৃত ২০ লাখ ডলার একটি বানান ভুল হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ফেরত পায়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি)-এর জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। এরপর ওই অর্থ পাঠানো হয় ফিলিপাইনের কয়েকটি ক্যাসিনোতে।

সূত্র: রয়টার্স।

আরও পড়ুন:

আলজেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৩
‘আর্মেনিয়ার গণহত্যা নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই জার্মানির’

কিউবা ওএএস-এ ফিরবে না: রাউল কাস্ত্রো

/এসএ/বিএ/