যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওরল্যান্ডোতে সমকামীদের নাইটক্লাবে চালানো হামলাকারীকে আগে থেকেই চিনতেন এফবিআই কর্মকর্তারা। রবিবার (১২ জুন) এফবিআই-এর এক স্থানীয় কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এফবিআই-এর ওরল্যান্ডো অফিসের কর্মকর্তা রন হপার জানান, ওমর মতিন এর আগে দুইবার তদন্তানাধীন ছিলেন। আর দুইবারই তাকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১৩ সালে প্রথমবার যখন তদন্ত করা হয়, তখন অভিযোগ ছিল, তিনি তার সহকর্মীদের সঙ্গে বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল যে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।
একই বছর এফবিআই কর্মকর্তারা ওমরের সঙ্গে মনির মোহাম্মদ আবুসালহার সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। মনির মোহাম্মদ আবুসালহা হলেন প্রথম মার্কিন নাগরিক, যিনি সিরিয়ায় বোমা হামলা চালান। তবে আবুসালহার সঙ্গে ওমর মতিনের কোনও বিশেষ যোগাযোগ এফবিআই-এর নজরে আসেনি বলে জানান হপার। উল্লেখ্য, আবুসালহাও ফোর্ট পিয়ার্সে বসবাস করেন। যা ওমর মতিনেরও বাসস্থান।
একই বছরে দুইবার ওমর মতিনের ওপর তদন্ত চালানো হলেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ বা মামলা ছিল না। আর তদন্তে ক্লিনচিট পাওয়ায় এফবিআই ওমরের বিষয়ে দ্বিতীয়বার আর ভাবেনি।
উল্লেখ্য, নাইটক্লাবে চালানো ওই সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহত হন। আরও ৫৩ জন আহত হয়েছে ওই ঘটনায়। শনিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডো শহরের পালস নাইটক্লাবে ঢুকে গুলি চালান ওমর মতিন নামক এক ব্যক্তি। এরপর তিনি নাইটক্লাবে অবস্থান করা লোকজনকে জিম্মি করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, জরুরি সাহায্যের জন্য দেওয়া ৯১১ নম্বরে ফোন করে ওমর নিজেই ওই হামলার কথা জানান। ওমর মতিনের কাছে একটি রাইফেল, একটি পিস্তল এবং দুটি সন্দেহজনক যন্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানায়। স্থানীয় সময় আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে এসডব্লিউএটি-এর বিশেষ কমান্ডোরা জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য অভিযান চালান। ওই অভিযানে ওমর মতিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে ওমর মতিনের সরাসরি কোনও সংযোগের বিষয়ে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে আইএস ওমরকে তাদের যোদ্ধা বলে দাবি করেছে।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ওয়াশিংটনপোস্ট।
আরও পড়ুন:
ফ্লোরিডার নাইটক্লাবে হামলাকারী বউ পেটাতেন!
ছেলের সন্ত্রাসের জন্য ক্ষমা চাইলেন ওমর মতিনের বাবা
/এসএ/