বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ভবন, সেতু-সড়ক ও রেলপথসহ কয়েক ডজন প্রকল্পের কাজ করে আসছে জাইকা। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ থেকে কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে জাইকা।
এদিকে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দেশটির সাত নাগরিকের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যে সাতজন নিহত হয়েছেন, তারা সবাই সেখানে গিয়েছিলেন দেশটির কল্যাণের জন্য। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।’
জাইকার সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্পে ৪৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে জাপান। সর্বশেষ ঢাকার বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে জাইকার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার।
শুক্রবার রাকে হলি আর্টিজান বেকারিতে যেসব জাপানি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তারা ওই মেট্রোরেল প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে তিন প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছে টোকিওর ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল এবং অন্য চারজনকে পাঠিয়েছে কাতাহিরা অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল।
নিহতদের সবাই বাংলাদেশের উন্নয়ন কাজের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন বলে উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিসি কিয়াটোকা বলেন, গত অক্টোবরে দেশের উত্তরাঞ্চলে এক জাপানি নাগরিক নিহত হওয়ার পরই বাংলাদেশকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, গুলশান হামলায় নিহত ৭ জাপানি নাগরিকের মরদেহ নিয়ে সোমবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে একটি ফ্লাইট ঢাকা ত্যাগ করবে বলে জানা গেছে। এ সময় মরদেহবাহী বিমানে থাকবেন ঢাকায় আগত জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারা।
জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নিহত সাত জাপানির মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
/এমপি/এমএনএইচ/