স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ডালাস শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভ শুরুর পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায় স্নাইপার রাইফেলধারীরা। এ সময় মিছিলকারীদের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। ডালাস পুলিশের প্রধান ডেভিড ব্রাউন জানান, গাড়ি পার্কিং এলাকায় লুকিয়ে থেকে এক সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে দূর থেকে আলোচনার মধ্য দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চালায় পুলিশ। ব্রাউন জানান, আলোচনা চলার সময় ওই সন্দেহভাজন আরও হামলার হুমকি দেয়। গ্যারেজের সব জায়গায় বোমা আছে বলেও সতর্ক করে। বলতে থাকে সমাপ্তি এগিয়ে আসছে।’ পরে ওই ব্যক্তি নিজেই নিজেকে গুলি করেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে এক সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করে ডালাস পুলিশ। ওই সন্দেহভাজনকে খুঁজতে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। টুইটারে প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায়, এক আফ্রিকান-আমেরিকান ব্যক্তি রাইফেল নিয়ে হাঁটছেন। তিনি টি-শার্ট পরিহিত। পরে অবশ্য ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গল ও বুধবার পরপর দুইদিনে পুলিশের হাতে খুন হন দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ । এতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিবাদ-মিছিল চলার সময় টেক্সাসে আক্রান্ত হলো পুলিশ।
উল্লেখ্য, এ বছর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের পুলিশ বাহিনী বর্ণবাদী মনোভাবে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করে বিশেষ এক মার্কিন টাস্ক ফোর্স। পুলিশের নির্বিচার গুলির বিরোধিতা করে জনগণের প্রতিবাদের মুখে বিশেষ এ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। তদন্তের পর, টাস্ক ফোর্স জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশের গুলির শিকার শিকাগোর শত শত মানুষের ৭৪ ভাগই আফ্রিকান-আমেরিকান। তদন্ত প্রতিবেদনে তাই বলা হয়, শিকাগোর মানুষের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর প্রতি সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক আর আস্থাহীনতা খুবই যৌক্তিক। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও একাধিকবার মার্কিন সমাজের অভ্যন্তরে বর্ণবাদের সংস্কৃতির কথা স্বীকার করেছেন।
/এফইউ/বিএ/