বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কমকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ওবামা সংবাদ সম্মেলন করেন। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে সফলতা আসলেও এখনও এ জঙ্গি সংগঠনটি হুমকিজনক বলে সে সময় সতর্ক করেন ওবামা। তিনি বলেন, নিজেদের ঘাঁটিতে পরাজিত হওয়ার পর এ জিহাদি সংগঠনটি বিদেশে আক্রমণ করার দিকে ঝুঁকছে বলে এরইমধ্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
এক বছরে আইএস ইরাক ও সিরিয়ায় বড় ধরনের সফল অভিযান চালাতে পারেনি দাবি করে ওবামা বলেন, এসব এলাকায় সফল না হতে পেরে ফ্রান্স, জার্মানি ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরাকের মসুল এবং সিরিয়ায় স্বঘোষিত রাজধানী রাকারও নিয়ন্ত্রণ হারাবে আইএস। ওবামা বলেন, ‘আইএস অপরাজেয় ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তারা অবশ্যম্ভাবীভাবে পরাজিত হতে যাচ্ছে।’
সম্প্রতি আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার কথা বলে সোমবার দেশটিতে অবস্থিত আইএসের একটি শক্ত ঘাঁটিতে হামলা চালায় দেশটি।
ওবামার দাবি, ‘আইএস যুক্তরাষ্ট্র অথবা ন্যাটো অংশীদারদের পরাজিত করতে পারবে না’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেন তবে দেশটি নিজের কাছে পরাজিত হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। ওবামা বলেন, ‘নির্বিচারে বেসামরিক হত্যা এবং ধর্মের ভিত্তিতে দেশে প্রবেশাধিকার দেওয়ার মতো কৌশল শেষ পর্যন্ত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইসলামের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি করে এ লড়াইয়ে আমরা জিততে পারব না।’
সরাসরি নাম উচ্চারণ না করলেও ওবামা আইএসবিরোধী লড়াইয়ে বিপর্যয় তৈরিকারী যে দুটি নীতির কথা বলেছেন তা ট্রাম্পের নীতিকেই ইঙ্গিত করছে বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। কেননা, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নামার পর থেকেই ট্রাম্প সিরিয়া-ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বহুদিন থেকেই সমালোচিত হয়ে আসছেন। গত নভেম্বরে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন। আর এর পর বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। নিজ দেশ এমনকি নিজের দল রিপাবলিকানের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ওই বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি
/এফইউ/