ক্যাম্পেইনের পুরোটা সময়জুড়ে ইসলাম-অভিবাসন-সন্ত্রাসবাদ-মুক্তবাজার প্রশ্নে বিভিন্ন ধরনের রেটরিক ব্যবহার করে আসছেন মার্কিন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিপাকে পড়ে গেলে মাঝে মাঝেই নেতিবাচক বক্তব্যকে ইতিবাচকতার দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টাও করত দেখা গেছে তাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাম্প সামলাতে পারেন না শেষপর্যন্ত। অথবা তা জরুরি মনে করেন না। তাই তার স্ববিরোধগুলো নগ্নভাবে হাজির হয় সংবাদমাধ্যমে। এবার নিজের বক্তব্যকে ঘুরিয়ে দিতে গিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর রোষানলে পড়েছেন তিনি।
বুধবার (১০ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘আক্ষরিক অর্থে (লিটারালি) আইএস-এর প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। বিপাকে পড়ে নিজের বক্তব্যকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ দাবি করে অবস্থান পাল্টান ট্রাম্প। নিজের পক্ষে যুক্তি হাজিরের চেষ্টা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ প্রকাশিত খবরকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, ওবামার সম্পর্কে ওই কথাটি ব্যঙ্গ করে বলেছেন। সিএনএন ‘কর্তৃপক্ষ কি ব্যঙ্গ বোঝে না?’
সিএনএন-এ প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প যে ব্যঙ্গ করে কথাটি বলেননি তা নিশ্চিত। কেননা, বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রক্ষণশীল ধারার রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইট এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মুখ দিয়ে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যাকে সুনির্দিষ্ট গতিমুখে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আগের বক্তব্যেই অনড় ছিলেন ট্রাম্প। আর তার ভিত্তিতে সিএনএন-এর দাবি, ‘ট্রাম্প আক্ষরিক অর্থেই ওবামাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেননি’।
সিএনএন-এর নতুন প্রতিবেদন বলছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে নিজের বক্তব্য আক্ষরিক ছিল নাকি রূপক ছিল তা ব্যাখ্যা করার মতো যথেষ্ট সুযোগ ও সময় দিয়েছিলেন রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইট। ট্রাম্পের অবস্থানকে একরকম প্রতীকীই মনে করেছিলেন হিউ। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘আপনি হয়তো বুঝিয়েছেন ওবামা একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছেন, শান্তি বিনষ্ট করেছেন আর সেকারণেই আইএস সৃষ্টি হয়েছে, তাই নয় কি?’ কিন্তু জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, ওবামা যে আইএস প্রতিষ্ঠা করেছে আমি সেটাই বুঝিয়েছি। এক্ষেত্রে তিনি খুব মূল্যবান খেলুড়ে। আমি তাকে এর জন্য পুরস্কার দিতে চাই। আর হিলারি ক্লিনটনকেও পুরস্কার দিতে চাই।’
তখন হিউ তাকে বলেন, ‘ওবামা তো আইএস’কে ধ্বংস করতে চান, তাদের ঘৃণা করেন।’ কিন্তু এতেও অবস্থান না পাল্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যা-ই হোক! ওবামাই আইএস প্রতিষ্ঠা করেছে! তিনি যেভাবে ইরাক থেকে বের হয়ে এসেছেন সেখান থেকেই আইএস সৃষ্টি হয়েছে। ওবামা যদি সবকিছু ঠিক ঠাক করতে পারতেন, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ ঠিক মতো সামাল দিতে পারতেন তবে আজ হয়তো আইএস-এর সৃষ্টি হতো না।’ সবশেষে হিউ বলেন, ‘সেটা সত্যি’। আর তখন ট্রাম্প বলেন, ‘সবশেষে তাই দাঁড়ায় যে ওবামা আইএস-এর প্রতিষ্ঠাতা’।
এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান বদলের প্রসঙ্গে ডেমোক্র্যাট এবং ইরাক যুদ্ধের সৈনিক সেঠ মোলটন সিএনএনকে বলেন, ‘ট্রাম্প দেখিয়ে দিলেন প্রতিটা দিন তিনি মিথ্যে বলেন। আর পরদিন এটাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন’।
সাবেক হাউজ স্পিকার নিউট গিংগ্রিচ ফক্স এন্ড ফ্রেন্ডসকে বলেন ‘ট্রাম্পের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে হতাশার ব্যাপার হলো তার অযথার্থ কথাবার্তা। মাঝে মাঝে দশ শব্দের প্রয়োজন হলে তিনি তিন শব্দ ব্যবহার করেন।’
/এফইউ/বিএ/