মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেন, আমরা সব নিউ ইয়র্কারকে এটা নিশ্চিত করছি যে, এই শহর দুনিয়ার যে কোনও প্রান্তের মানুষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের একজনের ওপর হামলা আমাদের সবার ওপরই হামলা। আমরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কের ৮৫ লাখ মানুষের পক্ষ থেকে আমি সেসব পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি যারা তাদের দুইজন ভালো মানুষকে হারিয়েছেন। মাওলানা আকুঞ্জি এবং থারা উদ্দিনের প্রতিবেশী এবং বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।
ইসলামে একজন ব্যক্তির মৃত্যু মানে শুধু একটি পরিবার থেকে তার হারিয়ে যাওয়া নয় বরং পুরো সম্প্রদায় থেকেই একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা হিসেবে এটা আমরা বুঝতে পারছি।
নিউ ইয়র্কের মেয়র বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কারণে নিউ ইয়র্ক সিটি অধিকতর ভালো এবং একটা শক্তিশালী জায়গা। আমরা সেসব কণ্ঠ শুনতে চাই না, যা আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করে। আমরা সবসময় মুসলিমদের পাশে দাঁড়াবো। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক আমরা তাকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করবো।
এর আগে এক বিবৃতিতে নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেন, আমরা এখনও মাওলানা আকুঞ্জি এবং থারা উদ্দিন-এর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানি না। আমরা এটা জানি যে, আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার। এটা একটা সংকটময় পরিস্থিতি।
এদিকে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ সোমবার জানিয়েছে, বাংলাদেশি ইমাম ও তার সহকারীকে হত্যার দায়ে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোড়া খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হুবার্ট রেয়েস জানান, ব্রুকলিনের বাসিন্দা অস্কার মোরেলের (৩৫) বিরুদ্ধে জোড়া খুনের এ অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মোরেলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রবিবার রাতে অস্কার মোরেলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন পুলিশ জানায়, সড়ক দুর্ঘটনা হিট অ্যান্ড রান সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওজোন পার্ক এলাকায় শনিবার মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর ইমাম মাওলানা আকুঞ্জি (৫৫) ও তার সহকারী তারা উদ্দিন (৬৪)-কে প্রকাশ্য দিনের বেলায় মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা মার্কিন মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। নিউইয়র্কের আতঙ্কিত মুসলিমরা নিরাপত্তা জোরদার এবং হামলাকারীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, এ হামলার পেছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ কাজ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশ হত্যাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনও তথ্য দিতে পারেনি।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, জোড়া খুনের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার সন্দেহভাজন খুনি স্কেচ প্রকাশ করে পুলিশ।
এদিকে সোমবার কুইন্সের ওজোন পার্কে আল-ফুরকান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণেই নিহত দুজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজ, রয়টার্স।
/এমপি/