ইমেইল ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনাগুলো ভুলে গিয়েছিলেন হিলারি!

n-HILLARY-CLINTON-628x314

মস্তিষ্কের অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে  ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এফবিআইএর জেরায় বলেছেন, সে সময় ইমেইল ব্যবহারে দেওয়া সরকারী আইনকানুন ও নিয়মাবলীগুলো মাথায় রাখতে পারছিলেন না তিনি। মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে তিনি সে সময় কম অফিস করতেন এবং কিছু মনে রাখা তার জন্য কষ্টকর ছিল বলে দাবি তার। যদিও বিরোধীরা একে অজুহাত হিসেবেই দেখছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের অফিসের কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছিল জুলাই মাসেই। তখন হিলারি কাজকে দায়িত্বহীন বলে তাকে দায়মুক্তিও দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই দায়মুক্তির বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এফবিআই। শুক্রবার (০২.০৯.২০১৬) হিলারিকে দেওয়া সেই দায়মুক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০১২ সালের ডিসেম্বরে হিলারি ক্লিনটন আঘাত পান ও তার রক্ত জমাট বেঁধে যায়। চিকিৎসকরা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজে দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি সময় দেওয়া তার স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকির হতে পারে।’ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হিলারি ক্লিনটন জেরার মুখে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তিনি সে সময় সাময়িক মস্তিস্কের চাপ কিংবা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাই ইমেইল ব্যবহার নিয়ে তাকে দেওয়া সরকারী নির্দেশনাগুলোর কথা মাথায় ছিল না তার। একে অসুস্থতার অজুহাতে দায়মুক্তির চেষ্টা হিসেবে দেখছে অনেকেই।

প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মস্তিস্কের অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে আইনবিরুদ্ধ কাজের দায়মুক্তির চেষ্টা করেছেন হিলারি।  তবে হিলারির প্রচারণা শিবির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হিলারির প্রচারণা শিবির বলছে অসুস্থতার অজুহাত নয়, হিলারি নির্দিষ্ট একটি সময়ে তার সমস্যা হয়েছিল বলে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন। তিনি দায় এড়াতে চাননি। ক্লিনটন প্রচারণার পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি ওই আঘাতের উল্লেখ করেছেন কেবল এটা বোঝাতে যে তিনি দিনে কয়েক ঘণ্টা কাজ করেছেন, কিন্তু বিষয়টি এমন নয় যে তিনি সেই সময়ের কোন কথাই মনে করতে পারেন না। হিলারির প্রচারণা শিবিরের দাবি, সে সময় হিলারির এই আঘাত সম্পর্কে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং রিপাবলিকানরা তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে এই বিষয়টিকে ব্যবহারও করে আসছে।

এফবিআই এর ওই প্রতিবেদনে হিলারির কোন বক্তব্য সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়নি। আঘাতের ফলে তার নির্দেশনা মনে করতে সমস্যার যে প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, তা সম্পর্কে স্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে সম্মত হয়নি এফবিআই।

 উল্লেখ্য, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের হয়ে প্রার্থিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা চাওয়ার পর হিলারির ইমেইল ইস্যু জোরালো হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ইমেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। আর সেকারণে হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ইমেইল আদান-প্রদানের কারণে আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এ বছর জুলাই মাসে সেই তদন্তের আওতায় হিলারিকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়।

তদন্ত শেষে এফবিআই পরিচালক জেমস কোমে জানান, হিলারি বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা করার কথা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “অফিসের কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে ‘প্রচণ্ড দায়িত্বহীন’ কাজ করেছে হিলারি। কিন্তু ব্যক্তিগত ই-মেইলের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে গোপন তথ্য সরবরাহ করেননি তিনি।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৮ পৃষ্ঠার এএফবিআই প্রতিবেদনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারির নেয়া একটি সাক্ষাৎকার থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্কে থাকাকালে তার বাস ভবনের ব্যক্তিগত সার্ভারেরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। রয়েছে আরও বেশকিছু চমৎকৃত তথ্য। আরেক ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনেক কিছুই মনে পড়ছিল না বলে জানিয়েছিলেন হিলারি।এই প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সময় রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সংরক্ষণের কাজে অসাবধান ছিলেন তিনি।   

 সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট 

/ইউআর/বিএ/