ওবামার আশ্বাসকে তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রশ্নে এরদোয়ানের প্রতি মার্কিন সমর্থন আকারে দেখছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রশ্নে এরদোয়ানের পাশে ওবামা’ শিরোনামে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে তারা।
এদিকে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের হ্যাংঝৌতে তারা এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। কারফিউ ও সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেওয়া হয়। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ওবামা বলেন ‘যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তাদের বিচার কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে সে ব্যাপারে বিচার বিভাগ এবং আমার জাতীয় নিরাপত্তা দল তুর্কি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে।’
জুলাইয়ের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে নিজের ক্ষমতাকে আরও নিরঙ্কুশ ও সর্বব্যাপী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন এরদোয়ান। এতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বিগ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা-নির্বাসিত ধর্মীয় চিন্তাবিদ ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্কের ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য দায়ী করে আসছে এরদোয়ান সরকার। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। তবে বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন গুলেন। যুক্তরাষ্ট্রও বলে আসছে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে গুলেনের সংশ্লিষ্টতা থাকার প্রমাণ হাজির করতে পারলেই কেবল তাকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে। ওবামার সঙ্গে বৈঠকে এরদোয়ান গুলেনকে ফেরত পাঠানোর জন্য চাপ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে তিনি তা দিয়েছেন কিনা, এখনও তা জানা যায়নি।
এরদোয়ান জানান, ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নিয়ে অতিরিক্ত প্রমাণ সম্বলিত নথি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার সরকার। শিগগিরই তার আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবেন বলেও জানান তিনি।
/এফইউ/বিএ/