ইকোনমিক পলিসি ইন্সটিটিউটের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিকরা শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের চেয়ে অনেক কম উপার্জন করেন। এই ব্যবধানের হার ১৯৭৯ এর চেয়েও বর্তমানে আরও বেশি।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বামপন্থী একটি সংস্থা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩৬ বছরে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে যেমন বেতন বৈষম্য বেড়েছে, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যেও একই ভাবে বেড়েছে বৈষম্যের হার।
কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের দৈনিক গড় মজুরি ১৯৭৯ সালে শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের তুলনায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিলো, যা ২০১৫ সালে গিয়ে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৯ শতাংশ হয়েছে।
ইপিআই প্রোগ্রাম অন রেসের পরিচালক ভ্যালেরি উইলসন বলেন, ‘এই প্রতিবেদন থেকে সামনে আসে, বর্ণভিত্তিক এই মজুরিবৈষম্য আগে থেকেও ছিল কিন্তু ২০১৫ সালে তা অনেক বেড়ে গিয়েছে। বর্ণবৈষম্য যে আছে এ কথা সবাই জানে, কিন্তু অনেকেই বিশ্বাস করেন পরিস্থিতির হয়তো আগের চেয়ে উন্নতি হয়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ ব্যুরো ২০১৫ সালে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখান থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে সকলেরই উপার্জন বেড়েছে। কিন্তু সেই বৃদ্ধির মধ্যেও বর্ণ ভিত্তিক বৈষম্য রয়ে গিয়েছে।
কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনদের উপার্জন না বাড়ার পেছনে একটা প্রধান কারণ, চাকরি শুরুর সময় প্রাথমিক বেতন কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে বাড়তে পারে না। এমনকি একই সমান ডিগ্রি নিয়েও শতকরা ১০ ভাগ কম বেতনে চাকরি শুরু করতে হয় কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের।
কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ক্ষেত্রে এই অবস্থা একই রকম, বিশেষত তরুণ নারীদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি।গবেষকদের মতে, বর্তমানে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য তীব্রতম। তাতে বলা হয়, ২০০০ সাল থেকে এই ব্যবধান বাড়ছে। সদ্য চাকরির বাজারে ঢুকেছেন এমন কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা তাদের বেতন ভাতা কমে যাওয়া মোকাবেলা করছেন।
শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের মধ্যে মজুরি বৈষম্য এখনও পর্যন্ত মানুষে মানুষে ভেদাভেদের সর্বোচ্চ শিখরে রয়েছে। কিন্তু ১৯৭৯ সালের পর থেকে নারীর বেলায় এই বৈষম্য দ্রুত বেড়েছে। এখানে শিক্ষাদীক্ষা ছাড়াও রয়েছে আরও নানা সামাজিক প্রেক্ষিত। যেমন বর্তমানে অনেক কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণে কাজ করতে যান।
উচ্চশিক্ষিত কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে উচ্চ শিক্ষিত কৃষ্ণাঙ্গ নারী সমান যোগ্যতার উচ্চশিক্ষিত শ্বেতাঙ্গ নারীর সমানই উপার্জন করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে এই অবস্থা নেই, শিক্ষিত নারীদের মধ্যেও শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বেতনের পার্থক্য হয় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।
একই সময়ে বর্ণবৈষম্য বাড়লেও লৈঙ্গিক বৈষম্য কমে গেছে অনেক। কিন্তু বর্ণবৈষম্যই কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ওপর ব্যপকভাবে প্রভাব রাখছে।
উইলসন বলেন, ‘শ্বেতাঙ্গ নারীরা যে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের সঙ্গে মজুরি বৈষম্য বিরাজ করায় সুবিধাভোগী হচ্ছেন, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই,’
তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে বেতনে লৈঙ্গিক বৈষম্য কমে আসছে তবে তা শ্বেতাঙ্গ নারীদের ক্ষেত্রে। কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা একই অবস্থায় আছেন।
ইপিআই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বৈষম্য কমাতে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: গার্ডিয়ান
/ইউআর/