কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার পুলিশি ভিডিও প্রকাশ, তবুও কাটল না সংশয়

keith-lamont-scott-ft-article-header

যুক্তরাষ্ট্রের শালর্টে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যাক্তিকে গুলি করে হত্যা করার সময়কার ভিডিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। কিন্তু এতে ওই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রধান প্রশ্নের সুরাহা হয়নি। শনিবার প্রকাশিত ভিডিও থেকে নিহত কেথ স্কট সশস্ত্র নাকি নিরস্ত্র ছিলেন সেই সংশয়ের জবাব মেলেনি।

কেথ স্কট পুলিশের গুলিতে নিহত হন মঙ্গলবারে। তারপর থেকেই উত্তর ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় নগরী শালর্টে প্রতিদিন চলছে বিক্ষোভ সমাবেশ। নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব ও বিচার চেয়ে পথে নেমে আসে নাগরিকরা।

এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ করেন নিহতের স্ত্রী রাকিয়া স্কট। সেই ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য কেথ স্কটের দিকে বন্দুক নিশানা করে তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলছে। এ সময় রাকিয়াকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘ওকে গুলি করবেন না, ওর কাছে কোন অস্ত্র নেই।’ 

রাকিয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, মস্তিষ্কে আঘাতের জন্য ওষুধ খেতে হতো কেথকে। তার হাতে সেই ওষুধই ছিলো, কোন আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো না।

কিন্তু পুলিশ দাবি করেছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে গুলি ভর্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে যাতে কেথের হাতের ছাপ পাওয়া গিয়েছে।

রাকিয়ার সেই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর নগরীর মেয়র ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলেন, রাকিয়ার ভিডিওটি অসমাপ্ত ও অসম্পূর্ণ, এতে কেথের হাতে অস্ত্র ছিলো কিনা, এবং কে আগে কাকে আক্রমণ করেছে তা স্পষ্ট নয়।

শালর্ট-ম্যাকলেনবার্গ পুলিশ প্রধান কের পুটনি বলেন, ‘তার হাতে অস্ত্র ছিলো কিনা তার কোন দৃশ্যমান প্রমাণ নেই। ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, তার হাতে একটা কিছু রয়েছে এবং তিনি তা একজন পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তাক করে রেখেছেন।’  

কিন্তু পুলিশের পোশাকের সঙ্গে যুক্ত ক্যামেরায় তোলা ভিডিওটি থেকেও এই প্রশ্নের কোন মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। কেথের হাতে অস্ত্র ছিলো কিনা সে সংশয়েরও সমাধান হয়নি।

শনিবার ভিডিওটির সঙ্গে একটি বিবৃতিও দেয় পুলিশ। সেই বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ব্রেন্টলি ভিনসনের গুলিতে কেথ স্কট নিহত হন।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেথ অস্ত্র তুলে ভয় দেখিয়ে ব্রেন্টলিসহ অন্যান্য অফিসাররা বিপন্ন বোধ করেন। কেথ ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করলে ব্রেন্টলি তাকে গুলি করেন।

কেথের পরিবারের পক্ষের আইনজীবী জাস্টিন বামবার্গ বলেন, ‘কেথের মধ্যে কোন রকম আগ্রাসী আচরণ দেখা যায়নি।’ 

কেথের পরিবারের আরেক সদস্য রে ডচ বলেন, গণমাধ্যমের সংবাদে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেথ কেমন মানুষ ছিলেন তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা। যদিও তিনি ছিলেন একজন ভালো মানুষ, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা তিনি একজন আমেরিকান, সে হিসেবে আরও ভালো কিছু তার প্রাপ্য ছিলো।

/ইউআর/বিএ/