ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেস মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তার মৃত্যুর খবরটি ইসরায়েল রেডিও-র বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসরায়েল রেডিও-র ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে শিমন পেরেস মারা যান। তখন ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দুই সপ্তাহ আগে এই জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি রাজনীতিককে স্ট্রোকের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এর আগে গত সপ্তাহে পেরেসের জামাতা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক রাফি ভালদান তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছিলেন। ১৩ সেপ্টেম্বর স্ট্রোকের ফলে তার মস্তিষ্কের ডান দিক ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলেও রাফি ভালদান জানান। পরে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তার শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি ঘটে এবং বুধবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রাজনীতিতে পেরেসের পদচারণা প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। ইসরায়েলের উন্নয়নে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অবদান রেখেছেন।
পেরেস ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে একবার ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৪ সালে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসলো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় ইসরায়েলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেস, প্রধানমন্ত্রী আইক্যাক রবিন এবং ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।
ওই নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে কেবল শিমন পেরেসই জীবিত ছিলেন। আইজ্যাক রবিন এক উগ্র ডানপন্থী জায়নবাদীর হামলায় ১৯৯৫ সালে নিহত হন। ২০০৪ সালে মারা যান ইয়াসির আরাফাত। আর এবার মারা গেলেন শিমন পেরেস।
সূত্র: রয়টার্স।
/এসএ/