নির্বাচনের ফলাফল মানবেন কিনা নিশ্চিত নন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ করবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং এখনও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলছেন তিনি। মঙ্গলবার নিউজ রেডিও ৬১০ ডব্লিউটিভিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দেখতে চাই শেষ পর্যন্ত কি হয়, আপনারা জানেন কিভাবে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

নির্বাচনে কারচুপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বেশকিছু ভয়াবহ গল্প শুনে থাকবেন আর এমন অনেক বিষয় দেখবেন, যা অন্যায়। কিন্তু এর পরেও আমি এই দেশটাকে ভালোবাসি এবং এই ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা রয়েছে।’

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তৃতীয় ও সর্বশেষ নির্বাচনি বিতর্কে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনে জিতলে তিনি তাকে অভিনন্দন জানাবেন কিনা? এর জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

নির্বাচনি বিতর্কে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি নির্বাচনের ফলাফল যথাযথ হয় কিনা, তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। আগে থেকেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ‘এবারের নির্বাচনে ১০ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও ভোট দেবেন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এখানে এমন সব মানুষ ভোট দিচ্ছেন, যারা এমনকি আমাদের দেশের নাগরিকও নন।’

১৭ অক্টোবর এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের দিন এবং তার আগে অবশ্যই বড় মাপের জালিয়াতি হচ্ছে।’

মঙ্গলবার ফ্লোরিডার টাম্পা বে ডব্লিউএফএলএ রেডিও স্টেশনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, নির্বাচন ফলাফল তার বিরুদ্ধে গেলে তিনি তা গ্রহণ করবেন কিনা? ট্রাম্প জানান, ‘যদি আমি মনে করি এতে কোনও অনিয়ম হয়েছে, তাহলে আমি তা চ্যালেঞ্জ করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তাহলে আমরা এক ভিন্ন চিত্র দেখবো। আমি একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের প্রত্যাশা করি। আশা করি, আমরা ভালো করবো।’

ওবামার বিরুদ্ধেও ট্রাম্প নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্পের মতে, শিকাগোতে নির্বাচনি কারচুপি করেছেন ওবামা। ট্রাম্পের দাবি, ২০০৮ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ওবামা শিকাগোর কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা বিরতি করেছিলেন। সেখানেই তিনি নির্বাচনি কারচুপি করেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন।

এদিকে, নেভাদায় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প শিবির জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে আগাম ভোটের সময় পার হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ক্লার্ক কাউন্টির চারটি ভোটকেন্দ্র খোলা রাখে। যার একটি লাস ভেগাসের নিকটবর্তী, যেখানে প্রচুর লাতিনো (হিস্পানিক) ভোটার রয়েছে।  

ট্রাম্প শিবিরের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় আগাম ভোটের সময় শেষ হওয়ার পরও ওই ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হয়নি। তা রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

এ সম্পর্কে ট্রাম্পের দাবি, এই নির্বাচন যে সাজানো, এটি তারই উদাহরণ। ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন। ভোটের দিন ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘নেভাদাসহ অনেক স্থান থেকেই আমার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সেখানকার অবস্থা ভালো নয়। আমাদের এই ব্যবস্থায় সততা বজায় রাখতে হবে। পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে খুবই শোচনীয় অবস্থা দেখা দিয়েছে, আর আমি আগে থেকেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে আসছি।’

তবে ক্লার্ক কাউন্টির মুখপাত্র ড্যান কুলিন রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে জানান, সেখানে কোনও অনিয়ম হয়নি। কুলিনের দাবি, ‘সন্ধ্যা ৭টায় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল। আর তাদের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে রাত ১০টার মতো বেজে যায়।’ সূত্র: পলিটিকো, এনবিসি নিউজ, সিএনএন।

/এসএ/এএ/