ইরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ‘কট্টরপন্থী’ ঋণখেলাপি আইনজীবী ডেভিড ফ্রাইডম্যানের নাম ঘোষণা করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রাইডম্যান তার ‘কট্টর ইসরায়েলপন্থী’ বক্তব্যের জন্য পরিচিত।
ফ্রাইডম্যান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের ক্ষেত্রে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতির বিরোধী। দুই রাষ্ট্র সমাধান নীতিতে ১৯৬৭ সালের ভৌগলিক সীমানা অনুযায়ী ওই আরবভূমিতে প্যালেস্টাইন ও ইসলায়েলকে পৃথক দুটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়। তবে ফ্রাইডম্যান এই দুই রাষ্ট্র সমাধাননীতির বিরোধিতার মধ্য দিয়ে কার্যত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
বস্তুত ফ্রাইডম্যানই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছেন। অবশ্য এর আগেও মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের অনেকেই মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার কথা বলেছেন। তবে আরব রাষ্ট্রগুলোর চাপের কারণে তারা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি।
‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতির বিরোধিতায় জায়নবাদী ওয়েবসাইট আরুৎজ শেভা-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফ্রাইডম্যান বলেছিলেন, ‘দুই রাষ্ট্র সমাধাননীতি হলো এক বিভ্রান্তি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিস্তিনি আরবদের বাজে আকাঙ্ক্ষার প্রতিফল। এটা কোনও সমাধান নয়, কেবলই একটা বক্তব্য। কিন্তু এবার ওই বক্তব্যটুকুরও সমাপ্তি টানতে হবে।’
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনিরাও জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী বলে মনে করেন। এর আগে শান্তি আলোচনায় জেরুজালেম নগরীকে বিভক্ত করে ব্যবহার করার কথা বলা হয়। মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়া হলে, তা হবে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। জেরুজালেম নিয়ে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিদের মধ্যে ঐতিহাসিক বিরোধ রয়েছে।
এর আগে ফ্রাইডম্যান আমেরিকান ফ্রেন্ডস অব বেত ইল ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সংগঠনটি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটেলার বসতি নির্মাণের জন্য অর্থায়ন করে থাকে। ওইসব বসতিকে ফ্রাইডম্যান ‘অবৈধ’ বলেও মনে করেন না। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে সেটেলার বসতি নির্মাণের ওপর যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তারও সমালোচনা করেছেন ফ্রাইডম্যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবিভক্ত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার পক্ষে সমর্থন দিয়ে আসছেন।'
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডেভিড ফ্রাইডম্যানের নাম ঘোষণা করে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বিশ্বস্ত উপদেষ্টা। ইসরায়েলের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক তার কূটনৈতিক মিশনের ভিত্তি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের শক্তিশালী সম্পর্ক জরুরি।’
রাষ্ট্রদূত বানানোর ঘোষণা আসার পর ফ্রাইডম্যান সম্পর্কে ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ লিখেছে, তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করে। সংবাদপত্রটিতে বলা হয়, ফ্রাইডম্যানের রাজনৈতিক অবস্থান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর থেকেই কট্টরপন্থী।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/বিএ/