ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুশ ভূমিকার তদন্তকারী এমআই-৬ গোয়েন্দা ক্রিস্টোফার স্টিলির সঙ্গে কথা বলতে চায় মার্কিন সিনেটের ইনটেলিজেন্স কমিটি। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ কথা জানিয়েছে।
একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ট্রাম্প আর রাশিয়ার সম্পর্কের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা ক্রিস্টোফার স্টিলি। প্রথমে রিপাবলিকানদের হয়ে ও পরে ডেমোক্রেটদের হয়ে অনুসন্ধান চালান তিনি। অনুসন্ধানে বলা হয়, ট্রাম্পের যৌন কেলেংকারি, পতিতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ও তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার নানা ঘুষ-জালিয়াতির তথ্য মস্কো হাতিয়ে নিয়েছে। সেসব তথ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে কোনো সময় ব্ল্যাকমেইল করতে পারে রাশিয়া।
মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ অভিযোগের তদন্তে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই তথ্যের খোঁজ পায়। তাদের সমন্বিত প্রতিবেদনে ক্রিস্টোফার স্টিলির দলিল সংযুক্ত করলেও তার সত্যতা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি গোয়েন্দারা।
রুশ সংযোগ ফাসেঁর পর ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন পদত্যাগ করেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্টিলির প্রতিবেদনে এ ধরনের অন্যান্য সংযোগ উঠে আসলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অভিযোগ উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই তদন্তকাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চাচ্ছে। ডেমোক্রেট নেতারা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাইলেও হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ রিন্স প্রেবাস এফবিআইকে এমন রিপোর্ট করতে নিরুৎসাহিত করছেন। সিনেট ইন্টিলিজেন্স কমিটিও নিজেদের মতো করে তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্টিলির সঙ্গে কথা বলে তারা সর্বোচ্চ তথ্য সংগ্রহ করতে চান। তাদের তদন্ত এফবিআই এর তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে স্বতন্ত্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্ল্যাকমেইল করার মতো স্পর্শকাতর তথ্য রাশিয়ার হাতে থাকার প্রতিবেদনের আংশিক সত্যতা রয়েছে। এ সংক্রান্ত নথিপত্রের তদন্ত কাজে যুক্ত কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তারা জানিয়েছেন, তারা তদন্ত করতে গিয়ে এর কিছু অংশের সত্যতা পেয়েছেন। আবার কিছু অংশ নিয়ে সত্য-মিথ্যা কোনোটাই নিশ্চিত করা যায়নি।
গোয়েন্দারা ক্রিস্টোফার স্টিলির নথিপত্রের কিছু অংশের সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। তাদের কয়েকজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, কয়েকজন রুশ গোয়েন্দার সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। তাদের ডজনখানিক কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। তবে ওসব কথোপকথনে ট্রাম্পের গোপনীয় তথ্য কতটা স্থান পেয়েছে- সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
/এমএইচ/বিএ/