একটি রাষ্ট্র আর সেই রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের অবস্থান সবসময় এক হয় না। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও এর প্রমাণ মিলেছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে থাকলেও সে দেশের বহু সাধারণ মানুষ সোচ্চার হয়েছিলেন পাকিস্তানি গণহত্যার বিরুদ্ধে। তেমনি রাষ্ট্র হিসেবে মিসর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান না নিলেও সে দেশের শুভ আর ন্যায়ের পক্ষের মানুষেরা অবস্থান নিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে। এমনই একজন শুভবোধ সম্পন্ন মানুষ হানি শাকের। তিনি একজন মিসরীয় সঙ্গীত শিল্পী।
ইসরায়েলি পুলিশ বাহিনীর ক্যাম্পেইনে নিজের ছবি আর গানের ক্লিপ ব্যবহৃত হতে দেখে আঁতকে উঠেছেন শাকের। ঘটনার প্রতিবাদে কায়রোতে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। ঘটনাকে আরব শিল্পের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ বলে মনে করছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর খবরটি জানিয়েছে।
সম্প্রতি নিজস্ব বাহিনীতে আরব-ইসরায়েলিদের উৎসাহিত করার জন্য প্রচারণা শুরু করে ইসরায়েলি পুলিশ। প্রচারণা সংক্রান্ত এক বিজ্ঞাপনে হানি শাকেরের ছবি আর তার গানের একটি ক্লিপ ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় কুদস প্রেসকে শাকের বলেন, ক্যাম্পেইনের বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি ‘চমকে’ ওঠেন। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কায়রোতে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন ব্যক্তিগত আইনজীবীকে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর শনিবার (৮ জুলাই) জানায়, কায়রোতে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন শাকের। তার আইনজীবীর দাবি, আরব জনগণের হৃদয়ে শাকেরের প্রতি যে পরিমাণ ভালোবাসা আছে তাকে হাতিয়ার করে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েলি পুলিশ।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে একাত্ম মিসরীয় ওই শিল্পী কুদস প্রেসকে জানান, তিনি ইসরায়েলি পুলিশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের শিল্প ব্যবহার করতে দিতে চান না। শাকের বলেন, ‘এটি আরব শিল্প চুরির ঘটনা। এবং আরব শিল্পের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণও। আরব চেতনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এটি একটি নিন্দনীয় প্রচেষ্টা।’ ৫৫ বছর বয়সী শাকেরের মতে, এর মধ্য দিয়ে যে মিসরীয় শিল্পীরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করে এবং তাদের অধিকারের জন্য কণ্ঠস্বর জোরালো করে, তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়।
আরবভূমিতে মিসর বরাবরই পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার দোষে দুষ্ট। তাদের পররাষ্ট্রনীতি মার্কিন স্বার্থের অনুগামী বলে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-ঘেষা পররাষ্ট্রনীতিতে অনুরক্ত মিসর মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সৌদি জোটভুক্ত হয়েছে। কাতারকে দেওয়া ওই জোটের ১৩ দফা শর্তে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার আন্দোলনকে রুখে দেওয়া সাম্প্রতিক কাতারবিরোধী অবস্থানের অন্যতম কারণ। তবে মিসরের ওই রাষ্ট্রীয় অবস্থান শাকেরের শিল্পীসত্তাকে দমন করতে পারেনি। সেই সত্তা ফিলিস্তিনি জনতার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি একাত্ম।
/এফইউ/বিএ/