সম্পদের তথ্য গোপন করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্বের অযোগ্য ঘোষিত নওয়াজ শরিফের কন্যা মরিয়ম নওয়াজ বলেছেন, তার বাবার দিন শেষ হয়ে যায়নি। মসনদে না থাকা সত্ত্বেও আবারও তার বাবা পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় ফিরবেন বলে মনে করছেন মরিয়ম।
দেশটির সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার এক আদেশে বলেছে, পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা আবশ্যক। অসৎ প্রক্রিয়ায় সম্পদের তথ্য গোপন করার কারণে তিনি এখন পার্লামেন্ট সদস্য থাকার ‘যোগ্য’ নন। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের কিছুক্ষণ পরেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন নওয়াজ।
সম্পদের তথ্য গোপন করায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি ‘সৎ থাকার’ সাংবিধানিক পূর্বশর্ত লঙ্ঘন করেছেন। তবে মরিয়ম নওয়াজ শরিফ বলছেন, “পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দিন শেষ হয়ে যায়নি। চেয়ারের দরকার নেই, আবার ফিরে আসবেন তিনি।” সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী পদের অযোগ্য ঘোষণার পর তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন।
সামাজিক মাধ্যম টুইটারে হাস্যজ্জ্বল কয়েকজন নেতার পাশে বেশ ফুরফুরে মেজাজে নিজের বাড়িতে বসে থাকা নওয়াজের একটি ছবি পোস্ট করেন মরিয়ম। টুইটে মরিয়ম লেখেন, কোনো শাস্তি দেয়ার সময় প্রকৃত ভদ্র লোকেরা এভাবেই হাসেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
Real men laugh when taking up the gauntlet :) pic.twitter.com/IP1XeURt30
— Maryam Nawaz Sharif (@MaryamNSharif) July 28, 2017
নওয়াজের পদত্যাগের পর বিরোধীরা মেতে ওঠে বিজয়োল্লাসে। এর প্রতিক্রিয়ায় মরিয়ম বলেন, “শিগগিরই বেশি শক্তি ও সমর্থন নিয়ে তিনি ফিরে আসবেন ইনশাল্লাহ। আপনারা পিএমএলএন-এর সঙ্গেই থাকুন।”
১৯৮৫ সালে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন নওয়াজ শরিফ। ১৯৯০ সালের ১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের মসনদে বসেন তিনি। তিন বছরের মাথায় ১৯৯৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হয় তাকে। ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন নওয়াজ শরিফ। সেবার ১৯৯৯ সালে দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান তিনি।
মরিয়ম বলেন, “২০১৮ সালে বিজয়ী হয়ে নওয়াজের ফিরে আসার পথ হয়তো আজকের এ ঘটনা আরও সুগম করে দিল। তাকে থামানো অসম্ভব, ইনশাল্লাহ। কেউ থামাতে পারলে থামান!”
সূত্র: ডন, জিওনিউজ।
/বিএ/