রোহিঙ্গা নিপীড়ন নয়, রাখাইনের ঘটনাকে বিভিন্ন পক্ষের সংঘাত বলছে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে উদ্বেগ প্রকাশের ধরন বদলেছে দেশটির। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’র সমালোচনা করতে রাজি নয় ট্রাম্প প্রশাসন। রোহিঙ্গা নিপীড়ন নয়, রাখাইনের ঘটনাকে বিভিন্ন পক্ষের সংঘাত হিসেবেই দেখছে হোয়াইট হাউস।

চলতি বছরের ২৪ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার অজুহাত তুলে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিক সহিংসতার দুই সপ্তাহের মাথায় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই বিবৃতি দেওয়া হয়।

জাতিসংঘের হিসাবে এবারের সহিংসতায় অন্তত হাজার খানেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় তিন লাখ মানুষ।

এক ফোন ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমার বিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজর প্যাট্রিক মারফি। এ সময় তিনি বলেন, এ অঞ্চলে মানবিক সাহায্য এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতির বিষয়টিই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নোয়ার্ট বলেছেন, রাখাইনে জনগণের ওপর কি ঘটছে সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সচেতন রয়েছে। সেখানে যা ঘটছে তাতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মানবাধিকার লঙ্গনের জন্য মিয়ানমারের ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়েছে বলে জানান হিদার নোয়ার্ট।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও বার্মার নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর মারাত্মক হামলার নিন্দা জানাই। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ওই বাহিনীর প্রতি আরও সহিংসতা প্রতিরোধের এবং স্থানীয় মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

হিদার নোয়ার্ট বলেন, ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে পালিয়ে আসা হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে কাজ করছে।

রাখাইনে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, এমন কোনও কিছু করা থেকে বিরত থাকতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান হিদার নোয়ার্ট। তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে জরুরি মানবিক সহায়তা দিতে দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আহ্বান রইলো।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাপারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমার জানামতে এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি স্যান্ডার্স। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, তারা চলমান পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি মিয়ানমারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উত্থাপন করা হবে। সূত্র: সিএনএন।