বিমান বাহিনীর ব্যর্থতায় টেক্সাসের হামলা!

US Air Force error enabled Texas shooter to buy gunটেক্সাসের একটি চার্চে প্রার্থনারত মানুষের ওপর নির্বিচার গুলির্ষণে ২৬ জন নিহতের ঘটনায় সামনে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ব্যর্থতার বিষয়টি। হামলাকারী ডেভিন কেলির অপরাধের অতীত ইতিহাস ছিল। এমনকি পারিবারিক সহিংসতার কারণে তাকে বিমান বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সামরিক আদালতেও তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ডেভিন কেলির এসব অপরাধের বৃত্তান্ত জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি বিমান বাহিনী। বিমান বাহিনীর এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়গুলো ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত থাকলে তার পক্ষে বন্দুক কেনা সম্ভব হতো না।

সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পর থেকেই ডেভিন কেলি’র ওপর বন্দুক রাখা বা কেনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্ত পুরো বিষয়টি ডাটাবেজে না থাকায় ২০১৬ সালে সে একটি রাইফেল কিনতে সক্ষম হয়; যা দিয়ে রবিবার টেক্সাসের চার্চে হামলা চালানো হয়। ঝরে যায় ২৬টি প্রাণ।

রবিবার উইলসন কাউন্টির সাদারল্যান্ড স্প্রিং শহরের ফার্স্ট ব্যাপ্টিস্ট চার্চে চালানো ওই হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ জন।

ঘটনার পরপরই হামলাকারীও নিহত হয়েছে, তবে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে নাকি সে আত্মঘাতী হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারী চার্চে ঢুকে গুলি ছুড়তে শুরু করে । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারী একজন শ্বেতাঙ্গ তরুণ এবং তার পরনে কালো পোশাক ছিল। এমন বর্ণনা দেন টেক্সাসের পাবলিক সেফটি ডিপার্টমেন্ট-এর মুখপাত্র। হামলাকারী গুলি চালাতে শুরু করলে তার হাত থেকে একজন স্থানীয় ব্যক্তি রাইফেল কেড়ে নেয় এবং তার দিকে গুলি ছোড়ে। এরপর বন্দুকধারী একটি গাড়িতে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারী একজন শ্বেতাঙ্গ তরুণ। তার পরনে কালো রঙের পোশাক ছিল।

গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানায়, এখনও পর্যন্ত হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যায়নি।

হামলার ঘটনার পরপরই এশিয়া সফররত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে লিখেছেন, এফবিআই এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। তিনি জাপান থেকে পরিস্থিতির খবর রাখছেন।

টোকিওর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, টেক্সাসের ওই হামলার ঘটনায় তিনি কী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে হামলাকারী খুব হতাশাগ্রস্ত ছিলেন এবং তার অনেক সমস্যা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘রবিবারের হামলাটি বন্দুকজনিত পরিস্থিতি নয় বরং এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা।

ইউএস টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন ও অন্য আগ্নেয়াস্ত্র মালিকদের কাছ থেকে ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া ট্রাম্প আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাবের বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পর পর বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বন্দুক হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবটি জোরালো হয়ে উঠেছে। রবিবার বন্দুক হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেছে জানিয়ে অন্যদের কাছেও বন্দুক না থাকায় ট্রাম্পকে আক্ষেপ করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে, যদি অন্য কারও কাছেও বন্দুক থাকতো তাহলে তারাও বিপরীত দিক থেকে আসা গুলি ঠেকাতে পারতো।’