বৈচিত্র্যকে ঐক্যের হাতিয়ার করতে বললেন পোপ

সেনাপ্রধান মিন অং মিয়ানমারে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয় না বলে দাবি করার একদিন পর সফররত পোপ ফ্রান্সিস জোরালোভাবে বৈচিত্র্যকে সম্মিলনের হাতিয়ার করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স পোপের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে। ধর্মীয় ও জাতিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণের ব্যাপারে তিনি সরাসরি মিয়ানমারের নেতৃত্বকে কিছু বলেছেন কিনা তা জানা যায়নি। তবে ভ্যাটিক্যান সূত্র জানিয়েছে, এখনও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি পোপ।

সোমবার ইয়াঙ্গুনের বিমানবন্দরে পোপকে এভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় পোপ বৈচিত্র্যকে সম্মিলনের হাতিয়ার করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ওই বৈঠক নিয়ে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষের এক ব্রিফিং এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে। তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে নিয়ে পোপ ফ্রান্সিস কিছু বলেননি বলে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থাটি।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমার সফরের দ্বিতীয় দিনে ইয়াঙ্গুনে ইসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু, ইহুদি এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠক করেন পোপ। পরে ওই বৈঠক নিয়ে করা এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাটিকান কর্মকর্তারা জানান, পোপ বলেছেন ‘বৈচিত্র্যই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে’। পোপ আরও বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মেরই যেমন নিজস্ব সমৃদ্ধি, ঐতিহ্য রয়েছে এবং সম্পদ ভাগাভাগি করার কথা বলা আছে; তেমনি প্রত্যেক ব্যক্তিরও ভিন্নতা, নিজস্ব মূল্যবোধ, নিজস্ব সম্পদ রয়েছে। এবং এটি কেবল তখনই হতে পারে যখন আমরা শান্তিতে থাকব। আর ভিন্নতার ঐকতানের মধ্যেই এ শান্তির বীজ নিহিত।’ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আয়ে লোয়িন নামের এক মুসলিম নেতা।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, 'আমরা যে ধর্ম লালন করি তা গুপ্ত এজেন্ডার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে পোপের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছি। আমাদের ধর্মকে বাঁচাতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আবেদন জানানোর জন্য পোপকে অনুরোধ করেছি।'
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৭ লাখ মানুষ রোমান ক্যাথলিক।