মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ কাউন্সিল রবার্ট মুলারকে বরখাস্ত করতে পারেন এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্ত করছেন রবার্ট মুলার। তাই তাকে সরিয়ে দিতে পারেন এমন গুঞ্জন উঠেছিলো। হোয়াইট হাউস ও মুলারের তদন্ত নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। শনিবার ট্রাম্পের ট্রানজিশনাল গ্রুপের এক আইনজীবী জানান, মুলারের টিম অবৈধভাবে অনেক ইমেইল জব্দ করেছে।
ট্রাম্প জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তারা খুবই ব্যথিত। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারি না তাদের কাছে আসলে কি আছে। কারণ আমরা বলেই আসছি, এমন কিছুই ঘটেনি।’ মুলারকে বরখাস্ত করছেন কী না এমন প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘না, অবশ্যই না।’
কয়েকজন ডেমোক্রেট এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাউস ইন্টিলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট অ্যাডাম শিফ বলেন, রিপাবলিকানরা এই তদন্ত বন্ধ করতে চায়। ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগ এনেছে মুলারের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুশ সংযোগ তদন্তে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন সাবেক এফবিআই পরিচালক রবার্ট মুলার। তদন্ত এগিয়ে নিতে এরইমধ্যে একটি গ্র্যান্ড জুরি গঠন করেছেন তিনি। গত জুনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং নিউজম্যাক্সের প্রধান নির্বাহী ক্রিস রুডি পিবিএসকে বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট মুলারকে বরখাস্ত করার কথা ভাবছেন।
নভেম্বরের নির্বাচনে রুশ সংযোগের বিষয়টি অনেকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে। তবে ট্রাম্প বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্তের পর এই তদন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দিকে মোড় নেয়। রুশ সংযোগ নিয়ে ট্রাম্পের দলের লোকজনের বিরুদ্ধে এতোদিন ধরে যে সব তদন্ত চলছে,সেগুলোর কোনওটিতেই ট্রাম্প নিজে তদন্তাধীন ছিলেন না। মুলারের নেতৃত্বাধীন তদন্তে প্রথমবারের মতো তিনি নিজে আওতাভুক্ত হন।