মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন নিয়ে এফবিআই’য়ের নজরদারির বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্মারকলিপি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ ইন্টিলিজেন্স কমিটি। কয়েকজন নির্বাচিত কর্মকর্তা ও জাতীয় আইন শৃ্ঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবাদের মধ্যেই এমন স্মারকলিপি প্রকাশ করা হলো। স্মারকলিপিতে এফবিআইয়ের নজরদারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ডেভিন নুনিস প্রণীত স্মারকলিপিতে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তের সময় এফবিআইয়ের নজরদারির অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। নুসিস তার বিবৃতিতে বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে, এফবিআই’য়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা যাচাই না করা তথ্যকে আদালতে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক প্রচারিভাযানের সময় পাল্টা গোয়েন্দা তদন্ত চালু করার জন্যই এ কাজ করা হয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘এফবিআই ও বিচার বিভাগ ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কার্টার পেজকে নজরদারিতে রাখার অনুমতি পেয়েছিল। তবে ট্রাম্প সম্পর্কে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচরের সংগৃহিত বিতর্কিত দলিলাদির তথ্যের ভিত্তিতে ওই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি দেশে যা চলছে তাতে আমাদের মানহানি হচ্ছে। অনেক মানুষের নিজেকে নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা এফবিআই’য়ের সঙ্গে একটি বিরোধকে তীব্র করার পরই এমন স্মারকলিপি দেওয়া হল। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই স্মারকলিপিকে বিভ্রান্তিকর ও অযথার্থ বলে দাবি করেছে।
কংগ্রেসের সদস্য ও হাউজ ইন্টিলিজেন্সের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম শিফ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘না, প্রেসিডেন্ট এটা তার চেয়েও খারাপ হলো। দেশের শীর্ষ নির্বাচিত নেতা এফবিআই’কে আক্রমণ করার জন্য পক্ষপাতী ও বিভ্রান্তিকরভাবে তথ্যের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রকাশে রাজি হয়েছে। এটা অল্প কিছু সময় আগেও ভাবাই যাচ্ছিল না।’
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ কর্মী জুলিয়ান সানচেজ বলেন, ‘পরিস্থিতিগত তথ্য ছাড়া স্মারকলিপিতে কী বলা হয়েছে তা বোঝা অনেক কঠিন। স্মারকলিপির অনেক সমস্যার মধ্যে এটাও আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেকগুলো অভিযোগকে একসাথে তুলে ধরা হয়েছে। মনে হচ্ছে কোনও খারাপ ঘটনাকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি বলা হয়নি।’
২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্ত চলাকালে হঠাৎ করেই গত চলতি বছরের ৯ মে জেমস কোমিকে এফবিআই প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করেন ট্রাম্প। এ ঘটনায় ট্রাম্পের রুশ সংযোগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সিনেট কমিটির শুনানিতেও নিজের অপসারিত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পের রুশ সংযোগকেই দায়ী করেন সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি।
ট্রাম্প প্রশাসন জেমস কমি-কে বরখাস্তের পর ট্রাম্পের রুশ সংযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান রবার্ট মুলার। তবে সমালোচকরা বলছেন, ওই বরখাস্তের আদেশের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষে রুশ সংযোগের তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে চেয়েছেন।