সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর বিমান হামলায় একই পরিবারের নিহত ৯

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অনুগত বাহিনীর বিমান হামলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার যু্দ্ধবিষয়ক একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

syria

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘে অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব পাশ হলেও ঘৌটায় বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। অনতিবিলম্বে ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাব পাসের কয়েক ঘণ্টার মাথায় নতুন করে হামলা শুরু হয়।

রাশিয়া জানায়,অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে যখন সবপক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাবে তখন থেকেই এই কার্যকরীতা শুরু হবে।

এদিকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌটার বিমান হামলায় রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন হোয়াইট হেলমেটস-এর স্বাস্থ্যকর্মীরা। দামেস্কের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌটায় এক সপ্তাহ ধরেই বিমান হামলা চালাচ্ছে আসাদ বাহিনী। হোয়াইট হেলমেটস-এর দাবি, সেখানে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার হয়েছে।

এই বিমান হামলায় পূর্ব ঘৌটা যেন ‘দোযখ নেমে এসেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুয়েতেরেস। তিনি বলেন, ‘এমন অবস্থা চলতে পারে না। আমি সবপক্ষকে তাদের দায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলে বেসামরিকদের রক্ষার আহ্বান জানাই।

পূর্ব ঘৌটায় প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। ২০১৩ সাল থেকে এলাকাটি বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। রাজধানী দামেস্কের কাছে অবস্থিত এটিই সর্বশেষ এলাকা, যেটি বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে অভিযান জোরালো করে সরকারি বাহিনী। এতে শত শত মানুষ হতাহত হয়। সম্প্রতি ১ হাজার ২৪৪ সম্প্রদায়ের ৫৬ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার স্বার্থের কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব আনে কুয়েত ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে রাশিয়ার স্বার্থগত বিরোধে সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি পিছিয়ে যায় কয়েকবার। অবশেষে, শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরীয় অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ত্রাণ ও চিকিৎসা সরবরাহে ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে একমত হয় সংস্থাটির স্থায়ী-অস্থায়ী ১৫ সদস্য রাষ্ট্রই।