‘রোহিঙ্গা নিধনের প্রমাণ’ চাইলে রাখাইনে পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাতে হবে: রা’দ আল-হুসেন



রোহিঙ্গা নিধনের অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করতে চাইলে রাখাইনের সংরক্ষিত এলাকায় পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (ইউএনএইচআরসি) প্রধান। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার সংস্থার প্রধান রা’দ আল হুসেন বলেন,  ‘রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব নৃশংসতা বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো উচিত।’ একদিন আগে একই শহরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন। সুইজারল্যান্ডের শহরটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করার আহ্বান জানান।

ae285931b829466c95f1b76602c29a6a_18

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে তুলে এনেছে রাখাইনের জাতিগত নিধনের আলামত। জাতিসংঘও জাতিগত নিধনের আশঙ্কা করছে। সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচআরসি) ধারাবাহিকভাবে একে জাতিগত নিধন বলে আসছে।

শুক্রবার ইউএনএইচআরসি প্রধান রা’দ আল হুসেন বলেন, তদন্ত চালাতে হলে মিয়ানমারকে রাখাইনের সংরক্ষিত এলাকায় পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।

রোহিঙ্গা নির্যাতনকে আগে থেকেই ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দেওয়া রা’দ আল হুসেন, ‘আমরা বলে আসছি, জোরালো সন্দেহ আছে, সেখানে গণহত্যা ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র আদালতই তা নিশ্চিত করতে পারে।’ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব নৃশংসতাকে বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো উচিত বলেও মত দেন তিনি।