ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউটিউবের সদর দফতরে হামলাকারী নারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে না পারলেও পুলিশের সন্দেহ, ইউটিউবের নীতির প্রতি রুষ্ট হয়েই নাসিম আগদাম নামের ওই নারী হামলা চালিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সংগ্রহকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশের তদন্তকারীরা এমনটা মনে করছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী নাসিমের বাবা আগেই তাদেরকে এমন আভাস দিয়েছিলেন। নিজস্ব ওয়েবসাইেটও নাসিম ইউটিউবের প্রতি ক্ষোভের আলামত রেখে গেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসিম আগদাম দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোতে বসবাস করতো। পুলিশ তার ব্যাপারে খুব বেশি প্রকাশ না করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পশুপাখিদের ওপর নিপীড়ন নিয়ে আগদামের অনেকগুলো ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইট ছিল। চ্যানেলগুলো এরইমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার দুপুরের ওই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করে মার্কিন পুলিশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ইউটিউব-এর ভিডিও ফিল্টারিং-এর নীতির কারণে নাসিম আগদাম নামের ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীর আয় কমে যাচ্ছিলো। তার বিভিন্ন ভিডিও ফিল্টার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পুলিশের আশঙ্কা, এই ক্ষোভ থেকেই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে আগদাম।
ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করতে পারেন গ্রাহকরা। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনও কারণে এই সুবিধা বন্ধ করতে পারেন। আগদামের বিষয়ে কি ঘটেছিল তা এখনও নিশ্চিত নয়। বাবা ইসমাইল বলেন, ইউটিউব টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় নাসিম খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন। স্থানীয় এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন, হামলা চালানোর কয়েক দিন আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তার মেয়ে। সেই তথ্য সোমবার পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। ইসমাইল বলেন, পরে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয় ক্যালিফোর্নিয়ার মাউনিটেন ভিউ এলাকায় গাড়িতে ঘুমাচ্ছেন তার মেয়ে। ওই জায়গাটি ইউটিউবের কার্যালয় থেকে ১৫ মাইল দূরে।
এনবিসির খবরে বলা হয়েছে, নিজের নামে নিবন্ধিত গাড়িটি নিয়েই মঙ্গলবার ইউটিউব কার্যালয়ে গিয়েছিলেন আগদাম। ২০১৪ সালে ইউটিউবে তার প্রকাশিত এক ভিডিওতেও এই গাড়িটি দেখা গিয়েছিল। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করেছিলেন, গাড়িটিতে ‘মাংস মানে হত্যা’ চিহ্ন থাকায় নিরামিষ বিরোধিদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি।
নিজেকে নিরামিষ ও পোষা প্রাণীর অধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত করে নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ইউটিউববিরোধী মনোভাবের আলামত রেখে গেছেন। আগদাম দাবি করেছিলেন তার ভিডিওগুলো ফিল্টার করছে ইউটিউব। ২০১৭ সালে এক ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন ইউটিউব তার ভিডিওগুলো ফিল্টার করেছিল। ওয়েবসাইটে তিনি আরও বলেন, ‘ইউটিউবের ফিল্টারিংয়ের কারণে তার দর্শক কমে যাচ্ছে।’ সে সময় অ্যাডলফ হিটলারের এক উদ্ধৃতিও তুলে ধরেন তিনি। ‘মিথ্যাকে বড় করো, সাধারণ রাখো। বারবার বলতে থাকো। একটা সময় সবাই বিশ্বাস করে ফেলবে।’