ভারতের দক্ষিণে বাড়ছে জঙ্গিবাদ, কেন্দ্রের অবহেলার অভিযোগ





ভারতে আইএসবিরোধী অভিযানসাম্প্রতিক সময়ে ভারতে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ আরও  চরম আকারে দেখা দিয়েছে। বিপাকে পড়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। দক্ষিণের তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার রাজনীতিবিদদের অভিযোগ— হিন্দি ভাষাভাষি উত্তরের প্রদেশগুলো বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। এছাড়া, দক্ষিণের প্রদেশগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমও আগের চেয়ে বেড়েছে।


ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের অবস্থান দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর এশিয়ার অন্যান্য দেশেও আইএসের আধিপত্য কমেছে। বাংলাদেশেও কমে এসেছে অনেকটা। তবে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বাড়ছে।
ভারত ছেড়ে আইএসে যোগ দিতে যাওয়া ৮৮ তরুণের মধ্যে ৫৩ জনই কেরালার, আর ৯ জন কর্ণাটকের। তাদের মধ্যে ২৫ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ইরাক ও সিরিয়ায় অভিযানের ফলে নির্দিষ্ট করে খবর পাওয়া কঠিন। সম্প্রতি ইরাকে সরকারি বাহিনীর হামলায় ৩০ জন ভারতীয় নিহত হওয়ার খবরটিও দেরি করে দিয়েছে ভারত সরকার।
২০১৭ সালে ভারতে আইএসের ২১টি হামলা হয়েছে। গত বছর ১৭ মার্চ ভূপাল-উজাইন ট্রেনে হামলায় আহত হয়েছিলেন ১০ জন। সেদিনই কানপুরে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন মোহাম্মদ শফিউল্লাহ। আটক করা হয়েছিল ৯ জনকে।

ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) জানায়, শফিউল্লাহকে উত্তর প্রদেশে হামলার পরিকল্পনা সাজাতে বলা হয়েছিল। এপর্যন্ত সন্ত্রাসের অভিযাগ ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে। ১৪টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এখনও আটক হয়নি ৩৩ জন।

ভারতে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত জঙ্গিবাদের সঙ্গে ১১১ জনের জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ২৫ জন ভারতীয়ের মধ্যে ২১ জনই দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা। সেই ২১ জনের ১৫ জনই কেরালার।

দক্ষিণেই জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি বেশি। উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্র থেকেও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দিচ্ছে ভারতীয়রা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন— দক্ষিণের এই পরিস্থিতিতে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন কেন্দ্রীয় সরকারের। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল সব্যসাচী বাগচি বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, শ্রীলঙ্কায় তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কেমন আন্দোলন করেছিল। তাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী মনে করা হতো। তামিলরা তাদের আত্মঘাতী চক্রও ব্যবহার করতো। দ্রাবিড়ীয় সন্ত্রাসের ধরনই অন্যরকম। ভারত সবসময়ই এই সন্ত্রাস চাপিয়ে রাখতে চাইবে।’

কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, হিন্দি ভাষাভাষী রাষ্ট্রের দিকে তাদের নজর বেশি। দক্ষিণের পাঁচ রাজ্যে অর্থনৈতিক উন্নতি বাকিদের চেয়ে কম। আগামী চারবছরের মধ্যে তাদের দিকে মনোযোগ দেওয়া না হলে ৩৫ হাজার কোটি রুপি থেকে বঞ্চিত হবেন তারা। এতে করে গুটিকয়েক রাজনৈতিক দল লাভবান হলেও দেশের ক্ষতি হবে।
এর আগেও দক্ষিণ থেকে প্রতিবাদী আওয়াজ উঠেছিল। বিশেষ করে তামিলনাড়ু থেকে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, উন্নয়নের এই বৈষম্যের কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অর্থনৈতিক অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রসহ পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো রাজ্য মিলে ইউরোপের মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনমানের সমান । আর পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের অবস্থা আফ্রিকার কিছু অঞ্চলের মতো।

স্বাভাবিকভাবে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে বিজেপি। তবে  উত্তরাঞ্চলেই তাদের  সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা। পশ্চিমেও তারা শক্তিশালী। কিন্তু দক্ষিণে তাদের উপস্থিতি খুবই কম। পূর্বে কিছুটা আছে। এখনও দেশজুড়ে নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। এই বিষয় নিয়ে এখনও কোনও বিজেপি নেতা কথা বলেননি। তবে লোকসভা নির্বাচন আসন্ন। তাই কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো মুখ খুলবেন কেউ।