ইহুদিদের ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট

ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ ওঠার পর ক্ষমা চেয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। নিজেদের ধর্ম নয় বরং কর্মকাণ্ডের জন্যেই ইউরোপিয়ান ইহুদিরা ঐতিহাসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করার পর তার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ উঠেছিল। সোমবার ফিলিস্তিনি জাতীয় কাউন্সিলের (পিএনসি) চারদিনের বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে ওই মন্তব্য করেছিলেন তিনি। বৈঠক শেষে শুক্রবার তার দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ক্ষমা চান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

বিবৃতিতে আব্বাস ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা জানিয়ে ইহুদিদের ওপর গণহত্যা বা হলুকাস্টকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘পিএনসিতে আমার বক্তব্যের কারণে কেউ বিশেষ করে ইহুদি ধর্মে বিশ্বাসীরা আঘাত পেয়ে থাকলে আমি তার জন্য ক্ষমা চাইছি।’ আব্বাস আরও বলেন, ‘আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এটা করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমি ইহুদি বিশ্বাসসহ অন্যান্য একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধার কথা পুনর্ব্যক্ত করছি’।

সোমবারের মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলি ও ইহুদি নেতা ও কূটনীতিকরা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ ও গণহত্যাকে অস্বীকার করার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন। তবে বিবৃতিতে আব্বাস বলেন, ১১ শতক থেকে হলুকাস্ট পর্যন্ত ইউরোপের কিছু দেশে ১০ থেকে ১৫ বছর পর পর ইহুদি বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হতো। বিভিন্ন লেখকের বই থেকে উদ্ধৃত করে আব্বাস বলেন, তারা ইহুদিদের ধর্মের কারণে ঘৃণা করতো না। তাদের সামাজিক পেশার কারণে ঘৃণা করতো। তাদের বিরুদ্ধে ধর্মের কারণে ইহুদি ইস্যুটি ছড়ায়নি। এর কারণ ছিল সুদ ও ব্যাংকিং ব্যবসা।

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লাইবারম্যান আব্বাসের এই ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, আবু মাজিন একজন হতভাগা হলুকাস্ট অস্বীকারকারী। তিনি একটি সাজিয়ে হলুকাস্ট অস্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তিনি হলুকাস্ট অস্বীকার করে একটি বই প্রকাশ করেছেন। তাই তাকেও (আব্বাস) একই রকমভাবে গণ্য করা উচিত। তার ক্ষমা গ্রহণযোগ্য নয়।