উত্তর কোরীয় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে চীন-রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ‘না’

চীন ও রাশিয়া এক্ষুণি উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতার পক্ষে অবস্থান নিলেও তা মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র। পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণের আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তারা। কিম জং উনকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়াসহ বাকি বিশ্বকে তারা জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই বহাল রাখতে হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের তরফে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত ৮৯ বার উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত পেট্রোলিয়াম নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়।  চীন ও রাশিয়া এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার পর এই আহ্বান জানালো যুক্তরাষ্ট্র।জাতিসংঘ সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে মাইক পম্পেও ও নিকি হ্যালি
পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় ২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। গত মাসে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন। তাতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে সম্মত হয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়া।

চলতি মাসেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণের ইস্যুতে আলোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপের পর সাংবাদিকদের পম্পেও বলেছেন, ‘চেয়ারম্যান কিম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন...তিনি নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর বিস্তৃতি এবং সুযোগ নিয়ে সম্মত হতে হবে। উত্তর কোরীয়রা জানে এর মানে কী। আমাদের দেখতে হবে চেয়ারম্যান কিম বিশ্বের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তিনি কিভাবে রক্ষা করেন।’

পম্পেও উত্তর কোরিয়ার ওপর চলমান অবরোধ ভঙ্গ না করতে আহ্বান জানান। বিভিন্ন সময়ে চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই অবরোধ ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করে আসছে দেশ দুটি। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, জাতিসংঘ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বল প্রয়োগের মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রাখা। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে নয়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উত্তর কোরিয়ার অবরোধ কমিটির কাছে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পিয়ংইয়ং ৮৯বার জাহাজ থেকে জাহাজে পেট্রোলিয়াম সরিয়ে নিয়েছে। কমিটির কাছে উত্তর কোরিয়ায় পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বন্ধের আহ্বান জানায়। তবে বৃহস্পতিবার চীন ও রাশিয়া এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আপাতত আলোচনা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার উপরাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি রয়টার্সকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাশিয়াকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই নিকি হ্যালির। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সিদ্ধান্ত মেনে চলি। আমরা নিষেধাজ্ঞা কমিটির নিয়মের আওতায় প্রশ্ন তুলেছি...আমরা কোনও কিছু আটকাইনি-শুধু স্থগিত রেখেছি। তার (নিকি হ্যালির) আরও মৌলিক পড়াশুনা করা উচিত।’ জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত মা জাওক্সু বলেছেন তার দেশ কোরীয় উপত্যকায় আলোচনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চায়।