হামাসের সঙ্গে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনায় মিসরে ফাতাহ'র প্রতিনিধিরা

মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্তঃ ফিলিস্তিনি সম্মিলন প্রশ্নে আলোচনা করতে কায়রো সফরে রয়েছে ফাতাহ পার্টির একটি প্রতিনিধি দল।  উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি রবিবার (২৯ জুলাই) মিসরের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাসের মধ্যে সমন্বয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্যই মূলত এ সফর। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এর এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

প্রতীকী ছবি
হামাসের তুমুল প্রতিরোধের মুখে ২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল পশ্চিমা সমর্থিত রাজনৈতিক দল ফাতাহ। তবে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মিসরের মধ্যস্ততায় ফাতাহ সমর্থিত সরকারের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে গাজার ক্ষমতা হস্তান্তরে একটি চুক্তিতে রাজি হয় হামাস। মূলত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও মিসরের অব্যাহত অবরোধ, ফাতাহ সরকারের তৈরি বিদ্যুৎ সংকট এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন না দেওয়ার মুখে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে হামাস। এমন পরিস্থিতি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এ দলটিকে পশ্চিমা সমর্থিত ফাতাহ’র সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হতে বাধ্য করে। গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে একটি মতৈক্যের সরকার কার্যকর করতে গত বছরের অক্টোবরে ফাতাহ ও হামাস একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সে অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শুরুর কথা ছিল। ওই সমঝোতা চুক্তিটির জামিনদার ছিল মিসর। দুই পক্ষই পরে মিসরকে গাজা উপত্যকায় পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন স্থগিত করতে বলে।

আবারও নতুন করে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রবিবার কায়রোতে রওনা করে ফাতাহ’র প্রতিনিধি দল। ফাতাহ সেন্ট্রাল কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আজম আল আহমদ প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জানা গেছে, হামাসের সঙ্গে সমন্বয় সাধন নিয়ে মিসরীয় প্রস্তাবের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান জানাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শুরুতে হামাস মিসরকে এর সম্মতি জানিয়েছে।

প্রতিনিধি দলের কায়রোর উদ্দেশে যাত্রা করার আগ মুহূর্তে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ২০১১ সাল থেকে তিনি অবস্থানে অটল রয়েছেন তা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। তার দাবি, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গাজা উপত্যকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আংশিক নয়।

অবশ্য, ফাতাহ’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হারেৎজকে বলেন, আব্বাস ও অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মিসরীয় নথি প্রত্যাখ্যান করতে চায় না। সেক্ষেত্রে সমন্বয়ের দিকেই তাদের আগ্রহ। জ্যেষ্ঠ এক ফাতাহ কর্মকর্তা বলেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মিসর ও জাতিসংঘের দূত নিকোলায় ম্লাদেনভের প্রচেষ্টার দিকে নজর রাখছে এবং এ প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে যেতে চায় না।