ঝুঁকির মুখে উ. কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা, বাতিলও হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে পাঠানো এক চিঠিতে উত্তর কোরিয়া জানায়, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং তা যেকোনো সময় বাতিল হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

4bprc02cfd18bb17fja_800C450

গত ১২ জুন (মঙ্গলবার) সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক এক বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়। বৈঠকে উভয় নেতাই পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরেণ কাজ করতে প্রতিশ্রুতি দেন। এর পরপরই ট্রাম্প জানান উত্তর কোরিয়া এখন আর পারমাণবিক হুমকি নয়। তবে এই বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রতিশ্রুতি আদায় করতে না পারায় দেশের সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। সেই চুক্তির বিষয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কোরীয় উপদ্বীপে ‘উষ্কানিমূলক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে চমক দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি। আগে এই সামরিক মহড়া সমর্থন করলেও ট্রাম্প এখন সেদিন একে ‘উষ্কানিকমূলক’ আখ্যা দেন।

এই চিঠির ব্যাপারে প্রথম খবর প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। তারা একে ‘গোপন যোগাযোগ’ বলে অভিহিত করে। তবে এই চিঠি কিভাবে পম্পেওয়ের কাছে পৌঁছালো সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তারা। ধারণা করা হচ্ছে জাতিসংঘ মিশনের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চুক্তি সইয়ের পরেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও উত্তর কোরিয়ার প্রত্যাশা পূরণে প্রস্তুত নয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এই চিঠির কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন কর্মকর্তাদের উত্তর কোরীয় কর্মকর্থাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে নিষেধ করেছেন। শুক্রবার এক টুইট বার্তাায় তিনি বলেছিলেন, আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেওকে উত্তর কোরিয়া যেতে নিষেধ করেছি। কারণ আমার মনে হয় কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যথাযথ অগ্রগতি হয়নি।