জাপানে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোকাইড়োতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩২ জন। রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের আঘাতে ১২০ জন আহত হওয়ারও খবর পাওয়া পাওয়া গেছে।

downloadব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দ্বীপের ৫৩ লাখ মানুষ। ড্রোন ফুটেজে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস ও পাহাড়ধনের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার ওপর গাছ পড়ে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ। 

হোকাইড়ো বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পের পর সবধরনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে  ২৯ লাখ ৫০ হাজার বাড়িতের কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

এছাড়া দ্বীপটির সঙ্গে সবধরনের ট্রেন যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রধান বিমানবন্দরের মেঝেতে ছাদের সিলিং ও পানি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অন্তত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এর কার্যক্রম। এতে করে ২০০ ফ্লাইট ও ৪০ হাজার যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানিয়েছে দেশটি বার্তা সংস্থা কিউডো।

এর আগের দিন টাইফুন জেবির কারণে কানসাই বিমানবন্দরও বন্ধ করা হয়।

‘ভূমিকম্পের দেশ’ হিসেবে পরিচিত জাপান বারবার বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। ভূমিকম্প, ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয় জাপানিদের। ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলায় যার অর্থ হয় ‘আগুনের গোলা’। ‘রিং অব ফায়ার’ এমন একটি কাল্পনিক বেল্ট যা ঘোড়ার খুর আকৃতির মতো প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। রিং অব ফায়ারে যেসব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ। এই রিং অব ফায়ারই ৯০ শতাংশ ভূমিকম্পের কারণ।