রুশ সংযোগ তদন্ত: ট্রাম্পের সাবেক সহকারীর ১৪ দিনের কারাদণ্ড

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে লন্ডনে মন্তব্য করে তদন্ত উস্কে দেওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সহকারী জর্জ প্যাপাডোপোলাসকে ১৪ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে মিথ্যা বলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি আদালত এই রায় দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রুশ হস্তক্ষেপ তদন্তে ট্রাম্পের সাবেক সহকারী হিসেবে প্রথম গ্রেফতার হওয়া প্যাপাডোপোলাসের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে কারাদণ্ড ছাড়াও ১২ মাসের শর্তাধীন মুক্তি, ২০০ ঘণ্টার কমিনিউটি সেবা ও ৯ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।শুক্রবার রায় ঘোষণার আগে আদালতের বাইরে সস্ত্রীক প্যাপাডোপোলাস
ওয়াশিংটন ডিসির আদালতে ৩১ বছর প্যাপাডোপোলাস নিজেকে ‘দেশপ্রেমিক আমেরিকান’ দাবি করে মিথ্যা বলে ভুল করেছেন বলে জানান। এফবিআইকে মিথ্যা বলায় গত অক্টোবরে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। মস্কোর দুই সন্দেহভাজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের সময় নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ তদন্তের সময় ট্রাম্পের প্রথম সহকারী হিসেবে আটক হন তিনি। আদালতে তিনি বলেন, তার পুরো জীবন ওঠানামায় ঘুরপাক খেয়েছে আর তিনি আশা করেন দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলে জীবনে ছন্দ ফিরিয়ে আনবেন। প্যাপাডোপোলাস বলেন, এই তদন্তের একটি বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে আর সত্যটার গুরুত্ব রয়েছে।

সাবেক সহকারী প্যাপাডোপোলাসের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর এক টুইটার পোস্টে রুশ হস্তক্ষেপ তদন্তের খরচ নিয়ে উপহাস করেছেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘১৪ দিনের জন্য ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার-প্রতিদিন দুই মিলিয়ন ডলার। কোনও যোগসাজশ হয়নি। আমেরিকার জন্য একটি বিশাল দিন!’

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর বাসিন্দা ২০১৬ সালে তৎকালীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা দলে স্বেচ্ছাসেবী বৈদেশিক নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে লন্ডনভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক ছিলেন প্যাপাডোপোলাস। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা দলে যোগ দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি মাল্টার এক প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জোসেফ মিফজুড নামের ওই প্রফেসর তাকে জানান, ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের হাজার হাজার ইমেইল হস্তগত করেছে রাশিয়া।

তরুণ এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই তথ্য প্রথমে ট্রাম্প ও পরে তার প্রচারণা দলের জাতীয় নিরাপত্তা দলকে জানিয়ে বলেন তিনি ২০১৬ সালের নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে পারেন।

দণ্ড ঘোষণার আগে গত সপ্তাহে আদালতের এক বিবৃতিতে লেখা হয়, জর্জ প্যাপাডোপোলাসের প্রস্তাবে ওই কক্ষের কেউ কেউ প্রতিবাদ জানালেও ট্রাম্প সম্মতি সূচক মাথা নাড়ান আর সেশন্সের দিকে তা ঠেলে দেন। সেশন্স এই আইডিয়া পছন্দ করেছিলেন আর বলেছিলেন প্রচারণা দলের এটার ওপরে মনোযোগ দেওয়া উচিত।noname

শুক্রবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে প্যাপাডোপোলাস বলেন, ট্রাম্প আমাকে এক প্রকার সম্মতি দেন তবে তিনি আবার রাশিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতিও দেননি। কিন্তু তিনি বলেন, তৎকালীন সিনেটর ও বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স প্রকৃত অর্থেই এটা নিয়ে উৎসাহী ছিলেন। গত নভেম্বরে কংগ্রেসকে দেওয়া সাক্ষ্যে সেশন বলেছেন, প্যাপাডোপোলাসের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

২০১৬ সালের মাঝামাঝি লন্ডনের একটি পাবে (মদের বৈধ দোকান) প্যাপাডোপোলাস অস্ট্রেলিয়ান এক কূটনীতিককে প্রফেসর মিফসুডের সঙ্গে বৈঠকের কথা বললে আমেরিকান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। ওই কূটনীতিক মার্কিন তদন্তকারীদের সতর্ক করে দেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এফবিআই যখন প্যাপাডোপোলাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন তিনি মিথ্যা দাবি করে বলেন, ২০১৬ সালের মার্চে প্রেসিডেন্টের দলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আসলে তিনি ট্রাম্পের প্রচারণা দলে যোগ দেওয়ার পর ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এর একজন ছিলেন এক রুশ নারী। যার সঙ্গে রাশিয়ার সরকারের যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন প্যাপাডোপোলাস।

শুক্রবার দণ্ড ঘোষণার পর আদালতের বাইরে প্যাপাডোপোলাসের আইনজীবী থমাস ব্রিন বলেন, তার মক্কেল ‘বোকা’ আর এফবিআইকে মিথ্যা বলে তিনি বোকার মতো কাজ করেছেন। তবে তিনি বলেন, এই তদন্তে প্যাপাডোপোলাস যতটা বাধাগ্রস্ত করেছেন তার চেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট করেছেন। তিনি বলেন, এই তদন্তকে ‘ভুয়া খবর’ ও ‘ডাইনি খোঁজা’ মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করেছেন।