মানবাধিকার হরণের তদন্তে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এছাড়া রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় দেশটিতে আটক হয়ে কারাদণ্ড পাওয়া বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের কার্যালয় বিষয়ক মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সোয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। ওই বৈঠকে পম্পেও যুক্তরাষ্ট্রের নথিবদ্ধ করা প্রতিবেদন ও জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনের উল্লেখ করা মিয়ানমারের মানবাধিকার হরণের তথ্য তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় দায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও অন্যদের দায়বদ্ধ করারও আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নুয়ার্ট বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রয়টার্স সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও’কে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি মত প্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও শক্তিশালী করতেও মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান’। আন্তর্জাতিক কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও গত মাসে এই দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমারের একিটি আদালত।
রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের নানা ভাগেই কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে মিয়ানমার সরকার। সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করেন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতায় ‘গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তবে মার্কিন সরকার একে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিত সহিংসতা চালানোর জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী দায়ী। প্রতিবেশি বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি ওই প্রতিবেদনে রাখাইনে নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণহত্যা চালানোর ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে।
অ্যাকটিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন ওই সহিংসতাকে গণহত্যা বলার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী মার্কিন তদন্ত প্রতিবেদন। তারা কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া এবং ‘ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরব থাকায়’ মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সমালোচনা করেছেন। তাদের পাশাপাশি রিপাবলিক্যান মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেই বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘পররাষ্ট্র দফতরকে অবশ্যই বলতে হবে গণহত্যা কোনটা’।
জাতিসংঘ চুক্তি অনুযায়ী গণহত্যা সংগঠিত হলে ‘যে বা যারা সেই অপরাধ করেছে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এমনকি তারা সাংবিধানিক শাসক, সরকারি বা বেসরকারি কর্মকর্তা হলেও’।
যে কোনও সহিংসতায় ঘটানোর দায় অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ অভিযুক্ত অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য একটি দল গঠন করতে সম্মত হয়েছে। এসব প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্য হলো যেন কোনও একদিন তা ব্যবহার করে সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিচার করা যায়।