যুক্তরাষ্ট্রে নারী অধিকার নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশকে ঘিরে বেশ কিছু ভুয়া ইভেন্ট খোলা হয়েছে। আর এই ইভেন্টগুলোর বেশিরভাগই চালানো হচ্ছিলো বাংলাদেশ থেকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর এক অনুসন্ধান থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।
৪০ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ২০১৭ সালে আয়োজিত প্রথম উইমেনস মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে আছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেও আরেকটি উইমেনস মার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। এর মূল তারিখ ১৯ জানুয়ারি। তবে ২০ জানুয়ারি তারিখ দিয়ে অসংখ্য ইভেন্ট খোলা হচ্ছে। আর এর অনেকগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে।
রুবি সিনেরিস নামে এক অধিকারকর্মী প্রথম এই ভুয়া ইভেন্টগুলোর খোঁজ পান। তারপর নিজেই নেমে যান অনুসন্ধারে। প্রথমে তিনি খেয়াল করেন যে ইভেন্ট পেজ থেকে হাস্যরসাত্মক পোস্ট করা হচ্ছিলো। তখনই সন্দিহান হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর খোঁজ নিয়ে দেখেন যে ইভেন্টে ভুল তারিখ দেওয়া।
সিনেরিশ বলেন, এভাবেই রিপাবলিকান কিংবা রুশরা আমাদের যোগাযোগ বিঘ্নিত করছে। রাজনীতিকীকরণ করছে। তবে সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পেজগুলো রাশিয়া কিংবা রিপাবলিকানরা চালাচ্ছে না। বরং বাংলাদেশ থেকে চালানো হচ্ছে ইভেন্টগুলো। আর এর উদ্দেশ্য মূলত টি-শার্ট বিক্রি।
এই উদ্দেশ্যে উইমেন মার্চ নিয়ে প্রায় ১৭০০ ফেসবুক পেজ খোলা হয়। বেশিরভাগেরিই কোনও ফলোয়ার ছিলো না। কিন্তু কিছু কিছু ভুয়া পেজে ২০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী ছিলো। কোনো কোনো পেইজে ১০ হাজার, কোনোটিতে ২০ হাজার মানুষ উইমেনস মার্চে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সেপ্টেম্বর আর অক্টোবরের শুরুতে এরকম ভুয়া ইভেন্ট পেইজগুলো ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ সরিয়ে দিলেও সঙ্গে সঙ্গেই খোলা হচ্ছে নতুন পেইজ।
সিএনএন জানায়, বাংলাদেশ থেকে খোলা গ্রুপগুলোর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক নয় বরং ব্যবসায়িক। তারপরও এটা মূল আয়োজনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে ধারণা আয়োজকদের। সিনেরিখ বলেন, ‘এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা ভুল দিনে যেতে পারেন কিংবা অংশ নাও নিতে পারেন। তিনি বলেন, ভুয়া ইভেন্টের ফাঁদে যারা পড়ছেন, তারা আসল কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না। এক দিকে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, অন্যদিকে ঐক্যের বদলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।