মুখে সৌদি যুবরাজের মুখোশ, হাতে রক্ত। আশপাশের সবার হাতে ব্যানার-ফেস্টুন। সেখানে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি দাবি। এভাবেই তুরস্কে সৌদি দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়েছেন তার সমর্থকরা। জানাচ্ছেন জড়িতের বিচারের দাবি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
তুর্কি বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছানির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর সৌদি জানায়, তুরস্কের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাদের দাবি ছিল জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলবশত তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এবার তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
খাশোগির এই সমর্থকগোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে জামাল খাশোগি ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রুপটির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা এখানে খাশোগিকে স্মরণ করতে ও তার হত্যার বিচার দাবি করতে এসেছি। তার বিচারকে কেন্দ্র করে কোনরকম অনিয়ম আমরা মেনে নেবো না।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খাশোগির মৃত্যুর বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত স্বীকার করার কয়েকঘণ্টা পর এই আন্দোলনে নামের খাশোগির সমর্থকরা। তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেট ছাড়াও অন্যান্য স্থানে জড়ো হন তারা। প্যারিস, ওয়াশিংটন ডিসির মতো বিশ্বের বড় বড় শহরে আন্দোলন করে দোষীদের বিচারের দাবি জানান তারা।
গ্রুপ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন দেশে থাকা জামালের বন্ধুরা এক হয়ে এই গ্রুপ তৈরি করেছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, খাশোগি হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যারাই বাকস্বাধীনতার বিরোধিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো আমরা।
এই আয়োজনে শুধু খাশোগি হত্যার দাবিই নয়, বরং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছে সাংবাদিকতা কোনও অপরাধ নয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসিত জামাল খাশোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী ছিলেন তিনি। ওয়াশিংটন পোস্ট ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানগুলোতে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন খাশোগি। তিনি সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।