শুক্রবার (২ নভেম্বর) পাকিস্তানে জমিয়তে উলেমা-ই-সামির প্রধান মওলানা সামি উল হক ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজনৈতিক মহলে তার পরিচয় ছিল ‘ফাদার অব তালেবান’ হিসেবে। তিনি পাকিস্তানের সাবেক সিনেট সদস্য। রাওয়ালপিন্ডিতে তার হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, আসিয়া বিবিকে নিয়ে পাকিস্তানে চলতে থাকা অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মওলানা সামি উল হকের হত্যাকাণ্ড।
নিহতের ছেলে মওলানা হামি উল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ড রহিত করে রায় ঘোষণার পর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে তার পিতাও যোগ দিচ্ছিলেন। তার হৃদরোগ ছিল। বার্ধক্যের কারণে শুক্রবার বাসায় বিশ্রাম নিতে ফেরেন তিনি। তার গাড়ির চালক আধা ঘণ্টার জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিল। ফিরে এসে দেখে সামিউল হকের রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।
ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার টুইটারে লিখেছেন, ‘মওলানা সামি উল হককে হত্যা করা হয়েছে। আবপাড়া চকে কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা জানা গেছে। সবাইকে কিছু সময়ের জন্য ঘরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। এর মধ্যে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।’
মওলানা সামিউল হক পেশওয়ারভিত্তিক মাদরাসা দার উল উলুম হাক্কানির প্রতিষ্ঠাতা। পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া সামিউল হকের প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কয়েক দশক ধরে আফগান তালেবানে যোগ দিয়েছে। তিনি পাকিস্তানে ‘ফাদার অব তালেবান’ নামে পরিচিত।
মওলানা সামিউল হকের মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শোক প্রকাশ করেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সামিউল হকের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবদান পাকিস্তান ভুলবে না।
মুত্তাহিদা মাজলিস-ই-আমল নামের রাজনৈতিক জোট গঠনের পেছেন ছিল সামির অনেক বড় ভূমিকা। তিনি সম্প্রতি ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।