জাতিসংঘে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেদার নোয়ার্টকে নিয়োগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে। এক সময় ফক্স নিউজে প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করতেন নোয়ার্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক ডেপুটি উপদেষ্টা দিনা পাওয়েল ও ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রাথমিক গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা ভুল প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।
এবছরের অক্টোবরে জাতিসংঘে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বছর শেষে পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। আর তার দায়িত্ব নিতে যাওয়া নোয়ার্ট ২০১৭ সালের এপ্রিলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ পান। সরকারি চাকরিতে এটাই তার প্রথম নিয়োগ। এ বছরের মার্চে তাকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে টুইট করে নোয়ার্টের নিয়োগের খবর জানাতে পারেন ট্রাম্প। আরেক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ তিনটি সূত্র থেকে নোয়ার্টকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর নিশ্চিত করেছে। কিন্তু হেদার নোয়ার্টের বর্তমান কর্মস্থল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ব্লুমবার্গ বলেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার আগে সরকার বা বৈদেশিক নীতিতে সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা হেদার নোয়ার্টকে জাতিসংঘ দূত হিসেবে মনোনীত করা প্রথাবিরোধী হবে। জাতিসংঘ দূত হিসেবে নিয়োগ পেতে ট্রাম্পের মনোনয়ন পাওয়ার পর সিনেটের অনুমোদন পেতে হবে নোয়ার্টকে।
১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ফক্স নিউজের হয়ে কাজ করেন হেদার নোয়ার্ট। পরের দুই বছর এবিসি নিউজে কাজ করে ২০০৭ সালে আবারও ফক্স নিউজে ফেরেন তিনি। পরে ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’র উপস্থাপক হন তিনি।
বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক বৈরি হলেও ফক্স নিউজ তাকে সবসময়ই সমর্থন করে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ফক্স নিউজের খবরে প্রায়ই নোয়ার্টের উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়।
দক্ষিণ ক্যারোলিনার সাবেক গভর্নর ৪৬ বছর বয়সী নিকি হ্যালি দুই বছর জাতিসংঘ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কেন তিনি পদ ছেড়ে যাচ্ছেন তার কোনও কারণ জানাননি। তবে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমান উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন।