গ্রেফতার-ভীতি ছাড়াই অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস ছাড়তে দিন: যুক্তরাজ্যকে জাতিসংঘ

গ্রেফতার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার শঙ্কা ছাড়াই অ্যাসাঞ্জকে ইকুয়েডর দূতাবাস ছাড়ার পথ করে দিতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার জেনেভার জাতিসংঘ মানবাধিকার সদর দফতর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে স্বাধীন মত প্রকাশ ও সত্য উন্মোচনে অ্যাসাঞ্জের ভূমিকার প্রশংসা করে তাকে দ্রুত মুক্ত জীবন ফিরে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ক্ষমতা উন্মোচনকারী বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস এর এডিটর-ইন-চিফ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে বাস করছেন। সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর ওই বছরের জুন থেকে সেখানে আছেন অ্যাসাঞ্জ। তবে ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।নির্বিচারি আটক প্রশ্নে কাজ করা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছিল, অ্যাসাঞ্জকে বিনা বিচারে কার্যত দূতাবাসে আটকে রাখা হয়েছে। শুক্রবারের বিবৃতিতে আবারও সেই পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়।

অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে। ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলে সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ না করার নিশ্চয়তা চান অ্যাসাঞ্জ। গত বছর সুইডিশ প্রসিকিউটররা ওই অভিযোগের তদন্ত বন্ধ করে দেন। তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জের স্বাধীনতা হরণের পেছনে একটাই যুক্তি আছে, তা হলো যুক্তরাজ্যে একটা জামিন ভঙ্গ করা। এটা খুব ছোট একটা আইনভঙ্গের বিষয়। এই অপরাধে ৬ বছর দূতাবাসে আটকে থাকতে বাধ্য করা কোনভাবেই জায়েজ হয় না।

উইকিলিকসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ অ্যাসাঞ্জকে বের করে দিতে চাপ দিচ্ছেন। জুনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুরক্ষার অবসান ঘটাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে এখনও সেরকম কোনও খবর জানা যায়নি।  মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এরইমধ্যে স্বাধীন মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি আর তথ্য প্রকাশ আর জনস্বার্থে সত্য উন্মোচনের পক্ষে ভূমিকার কারণে এরইমধ্যে যথেষ্ট মূল্য চুকিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। এবার তার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় হয়েছে। অ্যাসাঞ্জের স্বাধীনতা হরণ তার জীবন-ঝুঁকি সৃষ্টি করছে বলেও সতর্ক করেন তারা।

গত ছয় বছর ধরে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে বসবাস করছেন অ্যাসাঞ্জ। যুক্তরাজ্য সরকার তাকে গ্রেফতার করা ছাড়া ওই দূতাবাস ভবন ত্যাগ করতে বাধা দিয়ে আসছে। এমনকি চিকিৎসকের কাছে গেলেও গ্রেফতার করা হতে পারে তাকে। এমন আশঙ্কায় দূতাবাস ছাড়তে পারছেন না গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর দেশের সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেওয়া অ্যাসাঞ্জ। তার আইনজীবী গ্রেগ বার্নস সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, ‘উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো অ্যাসাঞ্জকে সবসময় মানসিকভাবে এতবেশি সতর্ক থাকতে হয় যাতে করে ছয় বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস বঞ্চিত থাকার অলঙ্ঘনীয় প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রম সচল থাকতে পারে...যুক্তরাজ্য সরকার যদি তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে না দেওয়ার নিশ্চয়তা না দেয়-তাহলে বাস্তবতা হলো অ্যাসাঞ্জের স্বাস্থ্য এমন পর্যায়ের খারাপ হয়ে পড়তে পারে যাতে তার জীবন মারাত্মক বিপদের মুখে পড়বে’।