যুক্তরাষ্ট্রে শাট ডাউন বা সরকারের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আভাস দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার আবারও তিনি আভাস দিয়েছেন যে, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ না পেলে সরকারের অচলাবস্থা সহসাই কাটবে না। বরাদ্দ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ ছাড়া সরকারের অচলাবস্থা কাটাতে ট্রাম্প উদ্যোগী না হওয়ায় বুধবার বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন কংগ্রেসের নেতারা। শাট ডাউনের ইতি টানার লক্ষ্যে আলোচনা করতে শুক্রবার আবারও হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আশা করছেন তারা।
বুধবারের বৈঠকে অংশ নেওয়া শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন যে, কেন তিনি সরকারের বিদ্যমান অচলাবস্থার অবসান ঘটাচ্ছেন না?
সিনেটর চাক স্কামার বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে বলেছি, কেন আপনি সরকারের অচলাবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে? আমাকে এর একটি সন্তোষজনক কারণ দেখান। কিন্তু তিনি আমাকে কোনও সন্তোষজনক কারণ দেখাতে পারেননি।
সিনেটরদের সঙ্গে এই বৈঠকের পর টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এর আগে শুক্রবার একাধিক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনার বিকল্প হবে মেক্সিকো থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এর ফলে মার্কিন গাড়ি কোম্পানিগুলো মেক্সিকোতে থাকা তাদের কারখানা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
গত অক্টোবরেও ওই সীমান্ত বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন সীমান্তে আসা অবৈধ অভিবাসীদের ঢল থামাতে লাতিন আমেরিকার সরকারগুলোর ওপর চাপ তৈরিতেই ওই হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার ভোরে টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘যদি প্রগতিবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা দেয়াল নির্মাণ শেষ করার অর্থ না দেয় তাহলে আমরা দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো’।
সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সম্পর্ক নাফটা চুক্তি পূর্ববর্তী সময়ের মতো অবস্থায় নিয়ে যাবেন বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে উন্মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি নাফটা চুক্তির পরিবর্তে মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে ইউএসএমসিএ নামে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে শুক্রবার কিছুই বলেননি ট্রাম্প। নতুন এই চুক্তির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলে আসছেন এর ফলে মার্কিন অর্থনীতি ব্যাপক লাভবান হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০১৭ সালে ছিল ৬১ হাজার ৫৯০ কোটি মার্কিন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের দুই দেশের মধ্যকার বিভাজন কিভাবে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের হুমকিকে পাশ কাটিয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডোর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা অবিবেচক হতে চাই না। আমরা মনে করি না আমাদের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে’।
ডেমোক্র্যাট এবং কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনাকে ব্যয়বহুল, অপ্রয়োজনীয় এবং অকার্যকর বলে মনে করেন। তবে বেশিরভাগ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।