অবিলম্বে সাংবাদিক হেদায়েতের মুক্তি চায় সিপিজে

নির্বাচন বিষয়ক প্রতিবেদনের কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সাংবাদিক হেদায়েৎ হোসেন মোল্যার মুক্তি দাবি করেছে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-সিপিজে। ২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
noname

ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ‘সঠিক ও তথ্যভিত্তিক না হওয়া’র অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মো. হেদায়েৎ হোসেন মোল্যাকে মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রেফতার করে পুলিশ। খুলনার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩-এর বিচারক নয়ন বিশ্বাস তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই অভিযোগে দৈনিক মানবজমিনের খুলনা প্রতিনিধি রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে৷ তাকে খুঁজছে পুলিশ।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সিপিজের এশিয়া অঞ্চলের সমন্বয়ক স্টিভেন বাটলার বলেছেন, ‘নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ আর এ নিয়ে যথাযথ প্রশ্ন তোলার কারণে কোনও সাংবাদিককে গ্রেফতারের ঘটনা পুনঃনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে একটি হতাশাজনক অবস্থান ।’ তিনি বলেন, ‘সরকারকে তার দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে’।   

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক হেদায়েৎ হোসেন মোল্যাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে, ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ আরও বেশকিছু সংবাদমাধ্যম বিশ্ববাসীর সামনে এ সংক্রান্ত খবর হাজির করেছে। ওইসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে এর সমালোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহসচিব শাবান মাহমুদ বুধবার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘আমরা আগেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের যে আশঙ্কা করেছিলাম  তাই সত্য হলো৷ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে নির্বাচনি কর্মকর্তাসহ সব পক্ষের বক্তব্য আছে৷ যদি সেখানে কোনও ভুল থাকে, তাহলে তা সংশোধনের সুযোগ আছে৷ কিন্তু তা না করে দু'জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হলো, একজনকে গ্রেফতার করা হলো৷ এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ এটা পেশাদার সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা৷ আমরা মামলা প্রত্যাহার ও আটক সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানাই৷''

মানবাধিকারকর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান ওই জার্মান সংবাদমাধ্যমকে বলেন,‘‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেফতারের এই ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি চরম হুমকি এবং মানবাধিকারের লংঘন ‘সামনে সাংবাদিকদের আরো বেশি দুর্দিন আসছে’৷ তাঁরা নির্বাচনের অনিয়মের খবর প্রকাশ করেছেন৷''

বাংলাভিশন-এর সাংবাদিক এবং প্রেসক্লাবের নেতা আতিয়ার পারভেজ তাদের জানিয়েছেন, ‘‘নির্বাচনি ফলাফলের যে তথ্যের কথা বলা হচ্ছে, তা রিটানিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রকাশ করার পর তারা ভুল বুঝতে পেরে আবার কারেকশন দেয়৷ তারা অসাধনতাবশত ভুল করে বেশি ভোটের কথা বলেছিলেন৷ আমরাও তা আবার সংশোধন করেছি৷ ওই দু'টি সংবাদ মাধ্যমও আগের নিউজ প্রত্যাহার করেছে৷ তারপরও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারে আমরা ক্ষুব্ধ৷ আমরা এর বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে যাচ্ছি৷'' তিনি আরও বলেন, ‘‘আটক সাংবাদিককে হাতকড়া পড়ানোর ঘটনা খুবই দু:খজনক৷ এটা পুরো সাংবাদিক সমাজকে অপমান করা৷''