কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ২৩ জন এমপি। এই রাজনীতিকদের বেশিরভাগেরই উগ্র ইসলামবিদ্বেষী ও অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দিল্লির আমন্ত্রণে বুধবার কাশ্মির সফরে গিয়ে অঞ্চলটির ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানের জানান দেন তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ।
কাশ্মিরের রাজ্যের মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে ফেলার পর এটাই কোনও বিদেশি প্রতিনিধি দলের প্রথম কাশ্মির সফর। মঙ্গলবার তারা যখন সরকারের নির্ধারিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন কাশ্মিরের কোনও সংবাদমাধ্যমকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
শ্রীনগরে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, কাশ্মিরে স্বায়ত্তশাসন বাতিল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে শান্তি বজায় রাখতে ও সন্ত্রাস দমনে দিল্লির পদক্ষেপের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। এ ইস্যুতে ভারতের পাশেই রয়েছেন তারা।
ফ্রান্সের এমপি হেনরি মালোসে এবং থারি মারিয়ানি বলেন, উপত্যকার মানুষ শান্তি চায়। এখানে উন্নয়নের একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে মানুষ সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু আশা করে।
সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কাশ্মিরের ডাল লেক-সহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
মঙ্গলবার দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর বিমানযোগে কাশ্মিরে পৌঁছান ইউরোপীয় এমপিরা। শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে তাদের একটি হোটেলে নিয়ে আসা হয়।
কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবহিত করেন পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং। উপত্যকার পরিস্থিতি জানতে প্রতিনিধি দল কথা বলে পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে। সরকারের প্রতিনিধিরা বোঝানোর চেষ্টা করেন, মানুষ শান্তিতে আগ্রহী। কিন্তু তা হতে দিচ্ছে না বিদ্রোহীরা।
কড়া নিরাপত্তায় উপত্যকার ঘুরে দেখেন সফররত প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তবে উপত্যকার কোনও সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দল তাদের সঙ্গে দেখা করে কোনও সমস্যার কথা জানায়নি। ন্যাশানাল কনফারেন্স জানিয়েছে, তাদের দুই এমপিকে ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।