ত্রুটিপূর্ণ বিমান উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিলো বোয়িং

২০২০ সাল থেকে নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান তৈরি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেবে বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং। দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নয় মাস ধরে বিমানটি আকাশে উড়ছে না। তবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।noname

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়ায় দুর্ঘটনায় পড়ে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এর দুটি বিমান। এতে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিমানটিতে কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ সামনে আসে। ফলে বিমানটির আকাশে উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যায়।

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর আশা ছিল, এই বছরের শেষ নাগাদ বিমানটি আবারও আকাশে উড়তে শুরু করবে। তবে শিগগিরই যে বিমানটি উড়াল দেওয়ার ছাড়পত্র পাচ্ছে না তা স্পষ্ট করেছেন মার্কিন নিয়ন্ত্রকেরা।

সিয়াটল ভিত্তিক বোয়িং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সাময়িকভাবে ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান উৎপাদন বন্ধ করা হলেও এর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে না। তবে এতে সরবরাহকারী ও বৃহত্তর অর্থনীতি আক্রান্ত হবে। বোয়িং এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপদে ৭৩৭ ম্যাক্স এর সেবায় ফেরা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় প্রথমবার ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান দুর্ঘটনার পরই বিমানটিতে কারিগরি ত্রুটি থাকার বিষয়ে জানতেন মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অ্যাভিয়েশন অথরিটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিমানটির নকশায় পরিবর্তন আনা না হলে এর মেয়াদকালের মধ্যে আরও অন্তত ডজনখানেক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটির যাত্রা বাতিল করায় ইতোমধ্যে বোয়িংয়ের ক্ষতির পরিমাণ নয়শো কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি বলছে বর্তমানে তাদের কাছে এই মডেলের ৪০০টি বিমান রয়েছে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স দুর্ঘটনায় পড়ে নিহত হন ১৮৯ জন আরোহী। ২০১৯ সালের মার্চে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ‘বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮’ বিধ্বস্ত হয়ে ১৫৭ জন প্রাণ হারায়।