করোনা ভাইরাসে অর্থনৈতিক সাফল্য দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন

চীনে করোনা ভাইরাসের বিস্তারকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এতে করে উত্তর আমেরিকায় কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত হবে।’

noname

চীনের সবগুলো প্রদেশ ও বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা ২১৩ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৯২ জন।  

মার্কিন এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইলবার রস বলেন, ‘আমি আসলে দুঃখজনক এই পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে বিজয় উল্লাস করতে চাই না। তবে এতে করে চীনের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) ব্যাপারে সবাই নতুন করে চিন্তা করবে। এর ফলে উত্তর আমেরিকায় চাকরির বাজার ফিরতে শুরু করবে।’ বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডন বায়ার এক টু্ইটে এর তীব্র সমালোচনা করেন।

পরে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের আসলে বিবেচনা করতে হবে যে আমরা এমন কোনও দেশের সঙ্গে ব্যবসা করবো কিনা যারা নিজেদের জনগণের ঝুঁকিকে সারা বিশ্বের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে।’    

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন এই করোনা ভাইরাস সার্স মহামারির চেয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। ২০০২ সালে সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো এবং এর মোকাবিলায় বিশ্বে ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছিলো। 

করোনা ভাইরাসের কারণে চীনে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গাড়ি নির্মাতাসহ বেশ কিছু কোম্পানি তাদের ব্যবসা স্থগিত রেখেছে। এছাড়া নতুন চন্দ্রবর্ষ উদযাপনও বন্ধ রেখেছে বেইজিং। দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে ভ্রমণ সতর্কতা।